৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, কারা পাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

2026-10-18T16:32:23+00:00
2026-10-18T16:35:46+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, কারা পাবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম  আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ৪:৩৫ পিএম
৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেবে সরকার। ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনাসহ শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব সেখানে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের লক্ষ্যে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য নতুন এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কমিটির কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।


পাশাপাশি ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এর আগে, খুলনার একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনকারী সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে গত ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়। স্ট্যাটাসে বলা হয়, ‘এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে।’

শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়।


এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের শিক্ষার্থীদের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কমিটির পরবর্তী সভাগুলোতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরও দফাওয়ারি সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষার মূল্যায়নে জোর

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের প্রচলিত শিক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, কেবল পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ওপর জোর দেন কমিটির সদস্যরা।

একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়। এর লক্ষ্য হলো, সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো যেন বারবার পরিবর্তন না হয়।

সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।


শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ

সংসদীয় কমিটি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১. শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করা।

২. শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করা।

৩. পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ড ও অধীনস্থ দফতরের প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

৪. হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত পরিশোধের জন্য আলাদা তালিকা তৈরি করা।

৫. বাজেট সাপেক্ষে বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা।

কমিটির অন্যান্য সুপারিশও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, জবাবদিহি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এ উদ্যোগ ও সুপারিশকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, পাসের হারের কৃত্রিম সূচকের পরিবর্তে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের যে তাগিদ সংসদীয় কমিটি দিয়েছে, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : বাসস

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   ল্যাপটপ  শিক্ষার্থী  সরকার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: