প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম
নতুন চাকরির আনন্দ কেড়ে নিল সড়ক দুর্ঘটনাবরিশালে একটি প্রজেক্টের চাকরি পেয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। পূজার ছুটি পেয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। নতুন চাকরি পাওয়ার আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। তার মরদেহ আনতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যরা নাটোরে অবস্থান করছেন।
নিহত আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঁইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার মরদেহের অপেক্ষায় আছেন স্বজনেরা। বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্য পরিবারের সদস্যরা।
আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙেছে দুঃসংবাদে। একই উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি। সেখান থেকেই স্বজনেরা মৃত্যুর খবর পান। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করেন। সকালেই তিনি তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন। স্বামীর মৃত্যুর খবরে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি, কথা বলতে পারছিলেন না।
আনোয়ারের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, আনোয়ার ঢাকায় থাকতেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে বরিশালে একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পান। সেখানে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় বাস থেকে নামার কথা ছিল। সেখান থেকে বাড়িতে পৌঁছাবেন বলে মোবাইলফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার আরেক দাদাসহ কয়েকজন মরদেহ আনতে নাটোরে গেছেন। মরদেহ পেলে বাড়ির পাশে পারিবারিক গোরস্থানে চাচাকে দাফন করা হবে। এজন্য কবর খোঁড়াও হচ্ছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আনোয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য থানা-পুলিশ, বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। কুয়াকাটা থেকে আরপি পরিবহনের বাসটি চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি ট্রাক। দুটি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। হতাহতদের উদ্ধার করে নাটোর, রাজশাহীসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২০ জনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই