শূন্যরেখা দুই দেশের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট শূন্য রেখায় দুর্গাপূজার নবমীর দিনে(ভারত ও বাংলাদেশ) দুই বাংলার দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে

2026-10-21T15:54:34+00:00
2026-10-21T15:54:34+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
শূন্যরেখা দুই দেশের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম 
নবমী থেকে বিজয়া দশমীর দিনে হিলি সীমান্তে দুই দেশের দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে। ছবি : সময়ের আলো
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট শূন্য রেখায় দুর্গাপূজার নবমীর দিনে(ভারত ও বাংলাদেশ) দুই বাংলার দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। দিন শেষে সন্ধ্যা নামিয়ে আসলেও দর্শনার্থীদের আসা যাওয়া লক্ষ্য করা গেছে। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহা নবমীতে সীমান্তের শূন্য রেখায় দুই বাংলার শত শত সনাতন ধর্মালম্বীদের আগমন ঘটে। সেই সাথে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক নারী ও পুরুষদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তাদের কেউবা পূজা দেখতে, কেউবা সীমান্তের শূন্য রেখা বরাবর ঘেঁষে বাংলাদেশের রেললাইন থেকে ভারতের হিলি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বিশাল আকৃতির দেবী দুর্গার আলোক সজ্জা, আবার কেউবা তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূর থেকে দেখা করতে এসেছেন হিলিতে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে হিলি সীমান্তের শূন্য রেখায় দুই বাংলার শত শত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ, মোটরসাইকেল, চার্জার ভ্যান, অটো ভ্যান করে দর্শনার্থী ও ভক্তরা আসছেন হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে।

অপরদিকে ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্নস্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন ভারতের ওপারে তাঁর কাঁটার বেড়া দেওয়া জিরো পয়েন্টে অংশে। এদিকে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিজিবি ও বিএসএফের সীমান্তের সুরক্ষার জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের কারণে এপার থেকে ওপারে যেতে না পারলেও শূন্য রেখায় দুই পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দর্শনার্থীরা একে অপরকে দেখছে ও ছবি তুলে তাদের দুঃখটাকে আনন্দে পরিণত করছে।

হিলি সীমান্তে বগুড়া থেকে আসা দর্শনার্থী রত্না রানী জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দুই বাংলাকে ভাগ করে দিলেও আমাদের মনকে তো আর ভাগ করতে পারেনি,আগে তো দুই বাংলা একই ছিল। তাই ভালোবাসার টানে, প্রাণের টানে, নাড়ির টানে তারা ছুটে এসেছি সীমান্তের শূন্য রেখায়। ভারতে আমার পিসি, দিদি আছে, ভেবেছিলাম আজ নবমীর দিনে হয়তো দূর থেকে হলেও বহুদিন পরে তাদের সাথে দেখা হবে। কিন্তু তারাও পূজার ব্যবস্থার কারণে আসতে পারে নাই তাই দেখা হলো না। তবে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সীমান্তের শূন্য রেখায় এসে ওপারের পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা ও শত শত দর্শনার্থীদের পদচারণা মুখরিত হয়েছে এই এলাকা, খুবই ভালো লাগছে।

দূর দূরান্তর থেকে আসা দর্শনার্থীরা আরও জানান, যদি একটু ভিতরে এক দিনের জন্য যেতে দিত, তাহলে ভিতরে গিয়ে প্রতিমা দেখা যে, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা এবং মন খুলে কথা বলো যেত। এক দিনের জন্য হলেও এপার বাংলা ওপার বাংলার মানুষেরা যেন প্রতিমা দেখতে পারে সেই জন্য দুই দেশের সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি আমরা।

আজ বুধবার সন্ধ্যার আগে প্রতি বছরের ন্যায় হিলি সিপি মোড়ে সার্বজনীন পূজা, মন্দিরে দেবী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের আগে হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে নিয়ে আসবে। এসময় ভারতের ওপার থেকে অনেক দর্শনার্থীরা তা উপভোগ করেন। 

হিলি আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা, বিভিন্ন উৎসব ও দিবসগুলোতে দুই দেশের অনেক দর্শনার্থীরা হিলি সীমান্তে এসে ভিড় করেন। সীমান্তের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশের রেললাইন থেকে ওপারের আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলা ও দেখার সুযোগ দিয়ে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের দুর্গাপূজায় গতকাল নবমী থেকে আজ বিজয়া দশমীর দিনে হিলি সীমান্তে দুই দেশের দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে। গতকাল নবমীর দিনে বাদ মাগরিব পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থীদের পদচারণা দেখা গেছে। 

সীমান্তে দোকান ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, প্রতিদিন এখানে ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণ দোকান দেয়। আজ নবমীর দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণা সবচেয়ে বেশি। দেখে মনে হচ্ছে আমাদের হিলিতে মিনি পার্ক গড়ে উঠেছে। বেচাবিক্রি মাশাল্লাহ আগের দিনের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। 

এদিকে দর্শনার্থীদের পদচারণা বিষয়ে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, দুই দেশের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার পরে থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে শারদীয় দুর্গা উৎসব শুরু প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, সীমান্ত ঘেঁষে যাওয়া রেললাইন, ওপারে ভারত মাঝখানে তাঁর কাটা, দূর থেকে হলেও আত্মীয়-স্বজনদের চোখে দেখা। সবমিলিয়ে হিলি সীমান্তের শূন্যরেখা দর্শনার্থীদের পদচারণা মুখরিত হয়ে উঠেছে। 

অনেকের বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় ওপারে (ভারতে) যেতে পারছে না। তারা দূর থেকে শারদীয় দুর্গা উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছে। সীমান্তের ওপারে একটি বিশাল পূজামণ্ডপ তৈরি করেছে। দেবীদূর্গা দেখা না গেলেও আলোকসজ্জা দেখে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে। আমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশ সদস্য সর্বদা বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। 

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   হিলি  দিনাজপুর  শূন্যরেখা  দুই দেশের দর্শনার্থী  পদচারণায় মুখরিত  শারদীয় দুর্গাপূজা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: