বিকল্প রুটে বাড়ছে বিনিয়োগ, পাঁচ বছরের মধ্যে গুরুত্ব হারাতে পারে হরমুজ প্রণালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। বিকল্প তেল পাইপলাইন, সমুদ্রবন্দর

2026-10-21T21:57:53+00:00
2026-10-21T21:57:53+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিকল্প রুটে বাড়ছে বিনিয়োগ, পাঁচ বছরের মধ্যে গুরুত্ব হারাতে পারে হরমুজ প্রণালি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম 
এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি। ছবি : গালফ নিউজ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। বিকল্প তেল পাইপলাইন, সমুদ্রবন্দর ও পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলো এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে বলে মনে করছেন এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি।   

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসবিসির ফিউচার ফোরামে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পরিবহনপথ তৈরির উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। এ জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।  

এলহেদেরি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি হয়তো আর আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না। তবে এটি একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চিত্র, নিশ্চিত সময়সীমা নয়। 

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।  

ফলে এ পথে যুদ্ধ, নিরাপত্তাঝুঁকি বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে এনেছে। 

বিকল্প তেল পাইপলাইন তৈরি করছে সৌদি আরব

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সক্ষমতা বাড়িয়ে ১ কোটি ব্যারেলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি টার্মিনালে নেওয়া যায়। ফলে এসব তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার প্রয়োজন হয় না।  

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।


বিকল্প পথ খুঁজছে ইরাক ও কুয়েতও

ইরাক সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তেল পরিবহনের একটি পাইপলাইন পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর আরেকটি বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে। 

অন্যদিকে, কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে তেল সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও ক্রেতাদের কাছাকাছি সংরক্ষিত তেল থেকে সরবরাহ অব্যাহত রাখার সুযোগ বাড়বে। 

তবে এসব প্রকল্পের সুফল নির্ভর করবে সেগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং কী পরিমাণ তেল পরিবহন করতে পারে তার ওপর।

বিকল্প বন্দর ও পরিবহন নেটওয়ার্কে গুরুত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

হরমুজ প্রণালির বাইরে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিকল্পিত আল রুগাইলাত ও দিব্বা টার্মিনাল ফুজাইরাহকে কেন্দ্র করে জেবেল আলীর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিবহন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। এতে হরমুজ প্রণালির বাইরে থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

মুডিসের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই সক্ষমতা জেবেল আলীর বর্তমান পুনঃরপ্তানি পণ্যের প্রায় অর্ধেকের সমপরিমাণ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করতে পারে।

এ ছাড়া এডি পোর্টস গ্রুপ ফুজাইরাহ ও খোর ফাক্কান বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৪০০টি ট্রাক যুক্ত করার পাশাপাশি ইতিহাদ রেল পরিষেবা বাড়িয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ পরিবহনের জন্য আকাশপথের বিকল্পও চালু করেছে।

অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

এইচএসবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্ক অঞ্চলে পরিকল্পিত এবং এখনো চূড়ান্ত বরাদ্দ না পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে ৮৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের প্রকল্প প্যাকেজ রয়েছে।

তবে এই অর্থের পুরোটাই হরমুজ প্রণালির বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা তৈরির জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাঁচ বছরে কি সত্যিই গুরুত্ব হারাবে হরমুজ?

বিশ্লেষকদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো, বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও সংরক্ষণাগার কত দ্রুত তৈরি হবে এবং সেগুলো দিয়ে কত পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে যেসব প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলেও হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া সব তেল ও এলএনজি অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।

তবে বিকল্প রুট তৈরি হলে যুদ্ধ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি রপ্তানি ও পণ্য সরবরাহের কিছু অংশ চালু রাখতে পারবে।

এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি কমতে পারে।

সূত্র : গালফ নিউজ 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   হরমুজ প্রণালি  বিকল্প  রুট 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: