সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। ছবি : এনডিটিভি সাত দিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার ( (২১ অক্টোবর) দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। তাদের জামিনদার ও শান্তি রক্ষার মুচলেকা গ্রহণের পর মুক্তি দেওয়া হয়।
জন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় তাদের আটক করা হয়েছিল। ওই স্থানটি নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
কেন গ্রেফতার হয়েছিলেন তারা?
গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা ওড়ান। এর আগে ১০ অক্টোবর আটক হওয়ার পর তারা শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা সেই মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
১৪ অক্টোবর তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। প্রথমে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হলেও পরে আরও দুই দিন হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি
হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিজেপি। বুধবার মামলার শুনানিতে আদালত মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, প্রতিবাদের সময় ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও সেখানে যোগ দিতে পারেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আদালত আরও জানতে চায়, দুই নেতার বয়স কত এবং তারা কী কারণে প্রতিবাদ করছেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ৩১ বছর বলে জানানো হয়।
এর আগে জুন ও জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ করেছিল সিজেপি। বর্তমানে দলটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে কাজ করা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। তবে এগুলো সিজেপির অভিযোগ, প্রমাণিত অপরাধ নয়।
কী শর্তে মুক্তি?
ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়েছে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ শর্ত অনুযায়ী জামিনদারি দিতে হবে।
পাশাপাশি তারা শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। জন্তর মন্তরকে আইন অনুযায়ী পুনরায় নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলেও মুচলেকায় উল্লেখ করেছেন তারা। ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিবাদ সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকে করা হবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন।
তবে তাদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান বন্ধ হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার নির্ধারিত হয়েছে।
মুক্তির সময় সৌরভ দাস বলেন, সত্যের জয় হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ