উপজেলার প্রায় ৩০টি স্থানে শত বছর ধরে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসে আসছে। ছবি : সময়ের আলোগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শেষ সময়ে লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রির হাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে।
দুর্গাপূজার বিজয় দশমীর পরের দিন থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর, কালিগঞ্জ, পীড়ারবাড়ী, কান্দি, ধারাবাশাইল, শুয়াগ্রাম, চৌধুরীরহাট, কলাবাড়ি, রামশীল, ওয়াপদারহাট, নৈয়ারবাড়ি, রাধাগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট, মনোহর মার্কেট, পশ্চিমপাড়, রাজাপুর, কুশলা, লাখিরপাড়, হিরণসহ প্রায় ৩০টি স্থানে বসেছে এই লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রির হাট।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ সব হাট থেকে পূজার জন্য লক্ষ্মী প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আগামীকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এ পূজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
হিরণ গ্রামের অজিৎ পাল বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৩০টি স্থানে শত বছর ধরে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসে আসছে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এসব হাটে প্রতিমা বিক্রি করেছেন। আমরাও এখন প্রতিমা তৈরি করে এসব হাটে বিক্রি করি। এখানে প্রতিটি হাটে আমাদের নির্মিত প্রতিমা বেশ বিক্রি হয়।
পশ্চিমপাড় গ্রামের রঞ্জিত পাল বলেন, আমাদের এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণেই প্রতিটি হাটেই ব্যাপকভাবে প্রতিমা বিক্রি হয়।
উপজেলার তারাশী গ্রামের প্রতিমা ক্রেতা মহাদেব সাহা বলেন, এ উপজেলায় আমরা যারা সনাতনী ধর্মাবলম্বী রয়েছি তারা সবাই ধনের দেবী লক্ষ্মীর পূজা করি। লক্ষ্মী দেবী তুষ্ট হলে ধন, সম্পদ ও ফসলে পূরিপূর্ণ হয়ে ওঠবে আমাদের ঘর। পরিবার থেকে অভাব-অনটন দূর হয়ে যাবে। তাই ছোট বেলা থেকেই ঘাঘর বাজার থেকে লক্ষ্মী প্রতিমা কিনে এই পূজা করে আসছি।
ঘাঘর বাজারে লক্ষ্মী প্রতিমা কিনতে আসা আনন্দ দাস বলেন, ঘাঘর বাজার ঘুরে আমি ৫শত টাকা দিয়ে একটি লক্ষ্মী প্রতিমা কিনেছি। এ ছাড়াও এখানে ২শত টাকা থেকে হাজার ১২শত টাকা পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি করতে দেখলাম।
সাংবাদিক রতন সেন কঙ্কণ বলেন, ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি কোটালীপাড়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে দশ রার পরের দিন থেকে প্রচুর প্রতিমা বিক্রি হয়। আমরা বংশ পরম্পরায় এসব হাট থেকে প্রতিমা কিনে লক্ষ্মী পূজা করে আসছি।
সাংবাদিক গৌরাঙ্গলাল দাস বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ গোজাগরী লক্ষ্মীপূজার উৎসব হয়। এ পূজাকে কেন্দ্র করে ৫/৬ দিন আগ থেকে উপজেলার প্রায় ৩০টি স্থানে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসে। এসব হাটে উৎসবমুখর পরিবেশে লক্ষ্মীদেবীর ভক্তরা প্রতিমা কেনাকাটা করে। এ সব ঐতিহ্যবাহী প্রতিমার হাটগুলো আরও শত শত বছর টিকে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সময়ের আলো/এনএন