প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
ভিডিওতে হোটেলটির দুই কর্মচারীকে গাঁজা প্রস্তুত করতে দেখা যায়। ছবি : সময়ের আলোজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকায় অবস্থিত সুজন হোটেলের কয়েকজন কর্মচারীর গাঁজা প্রস্তুত ও সেবনের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে হোটেলটির দুই কর্মচারীকে গাঁজা প্রস্তুত করতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে হোটেলটিতে তিন থেকে চারজনের উপস্থিতিতে গাঁজা প্রস্তুত ও সেবনের ঘটনা ঘটে।
এর আগে হোটেলটিতে খাবারের মান এবং গাঁজা সেবনের অভিযোগের বিষয়ে মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলটির কয়েকজন কর্মচারী গাঁজা প্রস্তুত ও সেবন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোটেলে আসেন মালিক সুজন। পরে তিনি ওই কর্মচারীদের গাঁজা সেবনের আলামত দেখতে পান এবং তাদের হোটেল থেকে বের করে দেন।
হোটেল মালিক সুজন বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরপরই রাত প্রায় দুইটার দিকে দোকানে আসি। এসে তাদের গাঁজা সেবনের আলামত পাই। পরে তাদের দোকান থেকে বের করে দিই। তাদের দিয়ে আর কাজ করাই না। আসলে কাউকে দেখে তো বোঝা যায় না যে সে গাঁজা সেবন করে কি না। জানার পরপরই তাদের বের করে দিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হোটেল কর্মচারীদের মাদক সেবনের ঘটনা জানার পরও প্রক্টরকে অবহিত না করা এবং সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে শুধু দোকান থেকে বের করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এটা আমার ভুল হয়েছে। এরপর থেকে এমন ভুল আর করব না। আর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমি স্যারকে বলতে পারিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। যেহেতু ওই দোকানটি আমাদের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রশাসনের আওতাধীন, তাই হলের প্রভোস্টকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছি।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রান্তিক বলেন, ভিডিওটি দেখেছি। আসলে এই হোটেলের আগেও গাঁজা সেবন, নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। তখন কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তার দোকানে কর্মচারীরা গাঁজা প্রস্তুত করছে। আমি ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। উপর্যুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন