জাইকাসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

রফিক রাফি ও সাব্বির আহমেদ টোকিও থেকে

জাতীয়

চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার প্রথম দিনেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে

2026-10-27T01:24:45+00:00
2026-10-27T01:24:45+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
জাইকাসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর
রফিক রাফি ও সাব্বির আহমেদ টোকিও থেকে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ এএম 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। ছবি : সংগৃহীত
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার প্রথম দিনেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী’ প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান। এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। এ সময় তাদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এরপর যৌথ ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক ও সহায়তার আহ্বান : 

সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে টোকিও ইম্পিরিয়াল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকোর বৈঠক হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে সহায়তা কামনা করেন বলে জানান তার উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারিত্ব একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী (টেকনোলজিক্যাল ভিলেজে ও ইনোভেশন সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শাহাদাত স্বাধীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরে গুরুত্বরাপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে জাপানের সহায়তায় পরিচালিত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা : 

এদিকে সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের রাজধানী টোকিওর নাস্তা বিমানবন্দরে পৌঁছান। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে তাকে অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও প্রধানমন্ত্রী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান। বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় সেখানে জাপান বিএনপির সভাপতি রেজী মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এস ইসলাম নান্নু, জাপান বিএনপি সহ-সভাপতি মাসুম জাকির, দফতর সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী নেতা কাজী সারওয়ার হাবিবসহ (সিআইপি) সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে নিয়ে যাওয়ার হয় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তার প্রতিনিধি দলে আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আম জনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পরে বিদেশে এটি হচ্ছে তারেক রহমানের চতুর্থ রাষ্ট্রীয় সফর। জাপান সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যোগ দিতে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও জাপানের সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হিসেবেও দেখছেন।

জেবিপিএফএলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ : 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (জেবিপিএফএল) একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় ইম্পেরিয়াল হোটেলে এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিও এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরকালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয় পক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা আশা করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন। বৈঠকে তারো আসো এবং জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সদস্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সফর দুই দেশের সংসদীয় বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে জাপানের শীর্ষ সংসদ সদস্যরা এবং দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়কমন্ত্রী তাতসুনৌরি ইবায়াশি উপস্থিত ছিলেন।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক : 

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ১২টা ৪৫ মিনিট) এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মাসুমি কাকিনোকি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ আরও সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সারা দিনের কর্মসূচি নিয়ে সোমবার রাত ৯টায় টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ প্রেস সচিস শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।

আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : 

বাংলাদেশ ও জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় টোকিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেইয়ে’ এই বৈঠক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন বলেন, মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ অভ্যর্থনা জানাবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক হবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   জাইকা  শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান  বৈঠক  প্রধানমন্ত্রী 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: