১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক। ছবি : সংগৃহীতজুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ সাতদফা দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় কার্যকর, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, নাগরিক জীবনের সংকট নিরসন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন মামুনুল হক। এর আগে দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সংস্কার বাস্তবায়ন, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা তাদের বক্তব্য ও পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণের ক্ষমতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে। তাই জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় পরিণাম ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণভোটের গণরায় কার্যকর করার দাবিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ও উত্তর জনপদের রংপুর অঞ্চলে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এবার তৃতীয় ধাপে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধান সংস্কারের দাবির পাশাপাশি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি, বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয়, দুর্নীতি দমন, চাঁদাবাজি এবং নাগরিক জীবনের অন্যান্য সংকট তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিশেষ করে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা গণহত্যাসহ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানানো হবে।
আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিকদের লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে মামুনুল হক বলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে বলে আমরা আশা করি। কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা যেন সৃষ্টি না করা হয়, সে প্রত্যাশাও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে। এ কারণে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে তারা আস্থার সংকটে রয়েছেন। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যকে আতঙ্কজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি দেশের আইনশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কীভাবে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। এ বক্তব্যে আমরা স্তম্ভিত এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সফরে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে, যাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়োজনীয়তা বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘোরাফেরা ও বিনোদনের সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা