১৮ বছরেই শহিদ, বীরত্বে অমর হামিদুর রহমান

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

আজ ২৮ অক্টোবর, বীরশ্রেষ্ঠ শহিদসিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন

2026-10-28T09:41:54+00:00
2026-10-28T10:12:50+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী
১৮ বছরেই শহিদ, বীরত্বে অমর হামিদুর রহমান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ এএম  আপডেট: ২৮.১০.২০২৬ ১০:১২ এএম
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদসিপাহি হামিদুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আজ ২৮ অক্টোবর, বীরশ্রেষ্ঠ শহিদসিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের এই দিনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের অভিযানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহিদ হন হামিদুর রহমান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহিদ হওয়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে।

১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত এলাকায় মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছিল। চারদিকে চা-বাগানঘেরা এই সীমান্ত ফাঁড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর শহরে ছিল মুক্তিবাহিনীর একটি সাব-সেক্টর ক্যাম্প। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানির সদস্য হিসেবে ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের অভিযানে অংশ নেন হামিদুর রহমান।

২৮ অক্টোবর ভোররাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে চারদিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হয়। অভিযানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। তীব্র গোলাবর্ষণে শত্রুপক্ষের ক্যাম্পে আগুন ধরে গেলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই দায়িত্ব পড়ে সিপাহি হামিদুর রহমানের ওপর। পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে এগিয়ে গিয়ে তিনি মেশিনগান পোস্ট লক্ষ্য করে দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। গ্রেনেড দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থাতেই মেশিনগান পোস্টে পৌঁছে দুই পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে হাতাহাতি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে পোস্টটি অকার্যকর করে দেন হামিদুর রহমান। তার এই আত্মত্যাগে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। পরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে সীমান্ত ফাঁড়িটি দখল করেন। তবে, বিজয় দেখে যেতে পারেননি হামিদুর রহমান। ফাঁড়ি দখলের পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন সহযোদ্ধারা।

পরে সীমান্তের অদূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের একটি পরিবারের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। যুদ্ধের পর দলই সীমান্ত ফাঁড়িতে তৎকালীন বিডিআর, বর্তমানে বিজিবির উদ্যোগে একটি স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান দলই চা-বাগানের জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত আবেদন ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে তার দেহাবশেষ গ্রহণ করে। পরে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে তা বাংলাদেশে আনা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনরায় দাফন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে।

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   বীরশ্রেষ্ঠ  হামিদুর রহমান  শাহাদতবার্ষিকী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: