বীরত্ব ও আত্মত্যাগের নাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক

2026-10-29T15:49:00+00:00
2026-10-29T16:11:28+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
৮৫ তম জন্মবার্ষিকী
বীরত্ব ও আত্মত্যাগের নাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম  আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ৪:১১ পিএম
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত ৭ বীরের একজন।

তার মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন এবং বাবা মৌলভি আবদুস সামাদ। তাদের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর তিনি পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ডিস্টিংশনসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন মতিউর রহমান। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। এরপর করাচির মৌরিপুর বিমানঘাঁটির ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পান। সেখানে টি-৩৩ জেট বিমানের ওপর কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে এফ-৮৬ স্যাবর জেটের ওপরও প্রশিক্ষণ নেন। বৈমানিক প্রশিক্ষণে ভালো ফলের ভিত্তিতে তাকে পেশোয়ারে বদলি করা হয়।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি ফ্লাইং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান।


১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে বাংলাদেশে এসে স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন মতিউর রহমান। ভৈরবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। পরে পারিবারিক চাপে মে মাসে পাকিস্তানে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নের কথা ছিল। মতিউর রহমান ছিলেন তার প্রশিক্ষক। ‘ব্লু বার্ড’ সাংকেতিক নামের বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে, বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সফল হয়নি। বিমানটি ভারতের সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে শহিদ হন মতিউর রহমান।

দেশের স্বাধীনতার জন্য তার অসীম সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বীরশ্রেষ্ঠ  মতিউর রহমান  জন্মবার্ষিকী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: