প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি গ্রেফতার। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের বেতনভুক্ত সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানিকে (৩৪) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করে।
সানির বাবার নাম মো. মালেক। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সাতবসু এলাকায় বাড়ি। বর্তমানে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান, অবস্থান শনাক্তকরণ ও নিবিড় নজরদারি করা হয়েছে। এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতার সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী। সে আগে বিদেশে থাকত এবং বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর বাংলাদেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসে। এরপর থেকে চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সে বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো।
জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে সে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেত। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে আসছিল।
চাঁদা দাবির কৌশলও আছে ভিন্ন ধরনের। চাঁদা দাবির পর নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা চাঁদার টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীর বাসা অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালাত।
সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ড জেলা গোয়েন্দা শাখার হাতে এসেছে। প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, সহযোগীদের পরিচয় এবং এই অপরাধী চক্রের কার্যক্রম উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেফতার তৎপরতার মুখে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অপরাধী চক্রের সদস্যরা অন্য জেলায় আত্মগোপন করেছিল। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা গোয়েন্দা শাখার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা