প্রতীকী ছবি নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল খ্যাত চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদকব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং গোলাগুলির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প মালিকরা ও আতংকের মধ্যে রয়েছেন। চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় মাদকব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও অস্ত্রের প্রদর্শন হয়। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটকও করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেকের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ওরফে মিশরী বিল্লাল অপরজন হলেন ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া, গত ২ অক্টোবর দিনের আলোয় শিল্পাঞ্চল খ্যাত চৌয়ালা লোকমান হোসেন স্কুল সংলগ্নে সনেট ও আবু লাল এই গ্রুপ গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। এতে সনেট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং অন্য দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নিহত ওই যুবক ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং সেও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের ভেতর গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার, মাদক বিক্রি, এবং পেশিশক্তি দেখাতে বিদ্যমান দুটি গ্রুপ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের পাশাপাশি গোলাগুলিতে লিপ্ত রয়েছে। এ নিয়ে জনমনে ও শিল্প মালিকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বেশকিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারও করেছ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা-শালিধা এলাকা ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উদ্বেগ বাড়ছে পুরো এলাকা। বর্তমানে ওই এলাকায় সনেট ও আবু লাল নামে দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে তারা ব্যবহার করছে অবৈধ অস্ত্র। পাশাপাশি নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সন্ত্রাসী ও অপরাধ কর্মকাণ্ড সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুতের দিকে ঝুঁকছে। এ দুটি গ্রুপের সন্ত্রাসী ও অপরাধ কর্মকাণ্ড এখন আর শুধু এলাকাভিত্তিক সীমাবদ্ধ নেই, চলছে পুরো শহরভিত্তিক। সম্প্রতি চৌয়ালা-শালিধা এলাকায় সনেট ও আবু লাল গ্রুপের মধ্যে ঘটে যাওয়া মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাকে বড় ধরনের প্রাণহানির আগাম বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সনেট গ্রুপ ও আবু লাল গ্রুপ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। এর আগেও বেশ কয়েকবার তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তারপর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকার আধিপত্য নিতে বেশ কয়েকবার মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সনেট ও আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করেন। পরে আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা সনেটকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে কিছুদিন পূর্বে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এরপর থেকেই সনেট গ্রুপের সদস্যরা আবু লালের প্রতি আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ২ অক্টোবর সনেট গ্রুপের সদস্যরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আবু লালের ওপর হামলা চালায়। আবু লালও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে সনেট গ্রুপের শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু নিহত হন।
এর রেশ না কাটতে কাটতেই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেকের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ওরফে মিশরী বিল্লাল অপরজন হলেন ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে, এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ না খুললেও তাদের মাঝে রয়েছে আতঙ্কের ছাপ। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন । এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করেন স্থানীয়রা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান বলেন, শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হওয়া বিল্লাল ও ইয়াসিন আবু লাল গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনায় আমরা কাউসার নামে একজনকে আটক করেছি। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা আবু লাল গ্রুপের সদস্য সাইফুল নামে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি দুই গ্রুপের প্রধানকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে । মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।
সময়ের আলো/আতা