প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিঅগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও গ্রেফতার— ফ্রান্সের তরুণদের আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে সুইজারল্যান্ডেও সহিংস রূপ নিয়েছে জেন-জিদের বিক্ষোভ। ‘সুইজারল্যান্ডেও আমরা আর সহ্য করব না’ স্লোগানে আয়োজিত এ বিক্ষোভ দেশটির দুটি শহরে সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও বাসেল শহরের রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক শ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জুরিখে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাংস্ট্রাসেতে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হ্যালোইন উপলক্ষে ব্যবহৃত মুখোশ পরেছিলেন। এ সময় আতশবাজি ও পটকা ফাটানো হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান রেলস্টেশনের কাছের হেলভেটিয়াপ্লাৎসের দিকে এগিয়ে যান। তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় একটি বাসস্টপের ছাউনি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া ময়লার পাত্র, সাইকেল ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি দোকানের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে বারবার আতশবাজি, বোতল ও পাথর ছুড়েছেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।
অন্য একটি ঘটনায় চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পথে পুলিশের একটি টহল দলের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার মুখে কর্মকর্তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। ওই ঘটনায় এক কিশোরের পা গুরুতর আহত হয়েছিল। তাকে চিকিৎসা দিতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিল পুলিশের দলটি। কিন্তু হামলার কারণে কর্মকর্তারা তার কাছে পৌঁছাতে পারেননি।
ক্যান্টন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাসেলে রাত ৯টার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১৫০ জন জড়ো হন। কয়েকটি বক্তব্য দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে মিটলেরে রাইনব্রুকে সেতু পার হয়ে মার্কটপ্লাৎসের দিকে যান। এরপর তাঁরা সেন্ট ইয়োহান এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ময়লার পাত্র ও ধাতব প্রতিবন্ধক দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সময় পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণদের আন্দোলনের প্রভাবও এসব বিক্ষোভে দেখা গেছে। আয়োজক ও বিক্ষোভকারীরা ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে নিজেদের আন্দোলনের তুলনা করেছেন। গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আহ্বানে ‘জেন-জি রেগেল্ট!’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ ‘জেনারেশন জেডের নিয়ন্ত্রণে’। জার্মানির তরুণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেও এই স্লোগানের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভ ও আন্দোলন যে ক্রমেই একে অপরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ