প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ পিএম
সংগৃহীত ছবিশরৎকালীন ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরেই সোমবার (২ নভেম্বর) ফ্রান্সের কয়েকটি হাই স্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ছাড় ও পদক্ষেপের ঘোষণা এলেও আন্দোলন আরও জোরদার করার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা।
এর আগে গত শনিবার টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো শিক্ষার্থীসহ কয়েক লাখ মানুষ ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার স্কুল অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হয়।
পড়াশোনার পরিবেশের অবনতি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিক্ষোভে রূপ নেয়।
আন্দোলন প্রশমনে সরকার ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না আন্দোলনকারীদের একাংশ।
সোমবার সকালে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ের একটি হাই স্কুলের প্রবেশপথে ময়লার স্তূপ ও ডাস্টবিন জমিয়ে অবরোধ তৈরি করা হয়। সেখানে একটি ডাস্টবিনের ওপর দাঁড়িয়ে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মরিয়ম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করেছি কারণ আমাদের দাবি পূরণ করা হয়েছে বলা হলেও তা স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়।’
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি হাই স্কুলের মধ্যে অল্প কয়েকটিতে অবরোধ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই প্যারিস এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের শেষে উচ্চ মাধ্যমিক (বাকালোরেয়া) পরীক্ষায় বসবে এমন লাখো শিক্ষার্থী চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত।’
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তরুণদের কথা শোনা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ঋণ কমানোর চাপও রয়েছে দেশটির ওপর। ফলে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও