প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম আপডেট: ০২.১১.২০২৬ ৬:১৮ পিএম
রোববার দোহা ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। সংগৃহীত ছবি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ছেড়েছেন। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে। সোমবার আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তা জানান, রোববার দোহা ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা শহরটি ছেড়ে গেছেন, বিষয়টি এমন নয়। সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাবের বিস্তারিত অবশ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনাটি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তেহরানের দেওয়া সাত দফা পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এই আলোচনা হয়। সমঝোতা চুক্তির আওতায় পরিকল্পনাটি আরও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা বিনিময় সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের সব দাবি মেনে নেওয়া এবং দেশটির ন্যায্য প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে না। একইভাবে এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।
এর আগে শনিবার কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাত দিনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা কমিয়ে দুই দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব।
ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাবটি এর আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত আবারও বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কার মধ্যেই সর্বশেষ কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হবে বলে মনে করে না ইরান।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে আবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ