ছবি : সংগৃহীত হ্যালোইন উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। উৎসবের রাত ও সপ্তাহান্তে একের পর এক বন্দুক হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। কস্টিউমের দোকান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশ এবং জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক গুলির ঘটনায় উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাসে। শহরের জনপ্রিয় বিনোদন এলাকা ডিপ এলামে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এসব হামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডালাস পুলিশের প্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানান, তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটলেও এর পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার আগে ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল। এরপরও সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
একই সপ্তাহান্তে আলাবামার বার্মিংহামেও বন্দুক হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক’ শেষে লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছের একটি সড়কে এ হামলা হয়। ম্যাচ দেখতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ হাজার দর্শক। খেলা শেষে দর্শক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বড় অংশ স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরে হ্যালোইনের পোশাক ও সাজসজ্জার দোকান স্পিরিট হ্যালোইনে শুক্রবার রাতে গুলিতে নিহত হন ৩১ বছর বয়সী কনস্ট্যান্স হেইজেস। তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একজনকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছিল। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ কাজে সহায়তা করছে এফবিআই।
একই দিনে মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটস শহরের আরেকটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে গুলিতে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হন। শুক্রবারের এ দুটি ঘটনা হ্যালোইন উপলক্ষে কেনাকাটা করতে যাওয়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে ডেলাওয়ারের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার ক্যাম্পাসের কাছে শনিবার গভীর রাতে গুলিতে আহত হন ছয়জন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে রোববার পর্যন্ত তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
ইলিনয়ের ব্লুমিংটন শহরে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরেক নারী। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। অন্যদিকে আরকানসাসের ফায়েটভিল শহরে গুলিতে আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সেখানে গুলি চালানোর আগে একটি বিরোধের ঘটনা ঘটেছিল।
হ্যালোইন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে শিশু-কিশোর, পরিবার ও তরুণদের অংশগ্রহণে রাতভর অনুষ্ঠান, পার্টি ও বিনোদনমূলক আয়োজন চলে। এ সময় ডালাস, বার্মিংহামসহ বিভিন্ন শহরের বিনোদনকেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে মানুষের সমাগম বাড়ে। কিন্তু এবারের উৎসবে একাধিক শহরে বন্দুক হামলার ঘটনায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এখন পর্যন্ত এসব হামলার মধ্যে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা বা যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগগুলো প্রতিটি ঘটনার আলাদাভাবে তদন্ত করছে। উৎসবের আনন্দের মধ্যে ধারাবাহিক এসব সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে