ছবি : সংগৃহীত সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের একটি শিল্পাঞ্চলে হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেন থেকে চালানো হামলায় শিল্প কমপ্লেক্সের একটি স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইয়েমেনের একটি আবাসিক এলাকায় সৌদি হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে হুতিরা। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মাকবানা জেলার আল-বারাহ এলাকায় দুটি পরিবারের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ছাড়া হুতিদের দাবি, এর আগের দিন বুধবার একটি পেট্রোল পাম্প ও বাজারে সৌদি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। এর জবাবে ইয়েমেন সরকারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এডেন বিমানবন্দরে হুতিরা হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করে সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুতিরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি ভূখণ্ড, নৌযান ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা।
সংঘাতের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে হামলার মাত্রাও বেড়েছে। গত অক্টোবরে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার কারণে দুই সপ্তাহ সেটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি বড় সম্মেলনও বাতিল করা হয়। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল দুটি ডিক্রি জারি করে আল-বাইদা ও আল-জাওফ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। প্রদেশ দুটি আংশিকভাবে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সরকার পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেজর জেনারেল হুসেইন আল-আজি আলী আল-আওয়াধিকে আল-বাইদা প্রদেশের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মেজর জেনারেল আমিন আলী আল-আকিমিকে আল-জাওফের গভর্নর এবং ওই অঞ্চলের সামরিক কমান্ডের প্রধান করা হয়েছে।
নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে আল-বাইদার সাবেক গভর্নর নাসের আল-সাওয়াদির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আওয়াধি। আর আল-জাওফের গভর্নর হিসেবে আল-আওয়াধির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আকিমি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দুই প্রদেশের সামরিক পরিস্থিতি বেশ জটিল। অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেনে সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।
সময়ের আলো/এসএকে