প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
সংগৃহীত ছবিচলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার সংখ্যা রেকর্ড গড়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ সময়ে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক স্বেচ্ছায় নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা স্থায়ী বাসিন্দার অধিকার ছেড়েছেন। সাপ্তাহিক সাময়িকী নিউজউইকের চলতি সংখ্যার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের তালিকায় নাগরিকত্ব ত্যাগকারী মোট ৪ হাজার ৫৭৪ জনের নাম উঠেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩১ জনের নাম। এর আগে বছরের প্রথম তিন মাসে ১ হাজার ৪৬২ জন এবং দ্বিতীয় তিন মাসে ১ হাজার ৭৮১ জন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। আগের বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর নাগরিকত্ব ছাড়ার এই প্রবণতা স্পষ্টতই অস্বাভাবিক রকম বেশি।
স্বেচ্ছায় জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার এই প্রবণতার পেছনে বড় কারণ জটিল করব্যবস্থা। গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ৫০০ জনেরও কম মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়েছিলেন। তবে ২০১০ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ‘ফ্যাটকা’ আইন পাসের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এই আইনের আওতায় বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের আয় ও সম্পদের তথ্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর করের বোঝার পাশাপাশি বাড়ে আইনি বাধ্যবাধকতাও।
বিশেষ করে বিশ্বের যে প্রান্তেই বসবাস করুন না কেন, উপার্জিত প্রতিটি পয়সার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর দেওয়ার নিয়মটি অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি যাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেও কখনো সেখানে বসবাস করা হয়নি, সেই ‘দুর্ঘটনাবশত মার্কিন’ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আইনটি নাগরিকত্বের বন্ধন পুরোপুরি ছিন্ন করার বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নীতিগত অসন্তোষও এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নিজ দেশের প্রতি অনেকের আবেগীয় টানও কমে আসছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে অনেকেই দ্রুত মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশাসনিক ফি কমে যাওয়াও এই প্রবণতায় গতি এনেছে। এত দিন নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদনের জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। সম্প্রতি তা কমিয়ে মাত্র ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
ফি কমে যাওয়ায় এত দিন নাগরিকত্ব ছাড়তে চাইলেও খরচের কারণে যারা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ছিলেন, তারাও এখন আবেদন করছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ