প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ এএম
সংগৃহীত ছবিদীর্ঘ ২৮ বছরের অভিযান শেষে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাজ্যের অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। প্রায় ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সোমবার ইংল্যান্ডের হাল শহরে নিজের শৈশবের বাড়িতে ফিরেছেন ৫৭ বছর বয়সী সাবেক এই সেনাসদস্য। ১৯৯৮ সালে চিলি থেকে শুরু হওয়া তার এই অভিযানে ব্যবহার করেননি কোনো মোটরচালিত যান।
১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি থেকে যাত্রা শুরু করেন বুশবি। দীর্ঘ এই অভিযানে পাড়ি দিয়েছেন মধ্য আমেরিকার দুর্গম জঙ্গল। আলাস্কা থেকে রাশিয়ায় বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে গেছেন। এমনকি কাস্পিয়ান সাগরও সাঁতরে পার হয়েছেন। গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার বিশ্বভ্রমণ শেষ করার পথ সুগম হয়।
সোমবার সকালে ইংল্যান্ডের হাল শহরের একটি চত্বরে তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন শত শত মানুষ। সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বুশবি বলেন, ২৮ বছর পর এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। পরে নিজের জিনিসপত্র একটি ছোট গাড়িতে তুলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মা, ৩৬ বছর বয়সী ছেলে ও ১২ বছর বয়সী নাতনি।
বিশের দশকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারাশুট রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন বুশবি। বিবাহবিচ্ছেদের পর একদিন বিশ্ব মানচিত্রে একটি রেখা টেনে বিশ্বভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার বাবা একসময় ভেবেছিলেন, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া সম্ভব কি না। বাবার সেই ভাবনাই বুশবিকে এমন অভিযানে অনুপ্রাণিত করে।
প্রথম দিকে ১০ বছরের মধ্যে ভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা দীর্ঘায়িত হয়। পানামায় তাকে কিছুদিন কারাবন্দি থাকতে হয়। মেক্সিকোতে পড়েন বন্দুকধারীদের মুখে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে রাশিয়াতেও আটক হন। এ ছাড়া ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তার যাত্রা ব্যাহত হয়।
বিবিসিকে বুশবি জানান, ২৮ বছরের এই অভিযানে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর তিনি হেঁটেছেন। ভিসা সংগ্রহ, ভ্রমণের প্রস্তুতি ও পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করতে কয়েক দফায় তাকে মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়েছে।
বুশবির দীর্ঘ এই অভিযানের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র। পাশাপাশি আগামী কয়েক সপ্তাহে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আলো/জোই