৫ বছরে শতাধিক গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫০টি

2026-11-04T12:38:27+00:00
2026-11-04T12:39:30+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
৫ বছরে শতাধিক গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম  আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১২:৩৯ পিএম
৫ বছরে শতাধিক গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার । ছবি : সংগৃহীত
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিশ্চিত করা। 

বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫০টি কূপের মধ্যে ১০৪টি নতুন করে খনন করা হবে। বাকি ৪৬টি কূপে পুরোনো কূপের সংস্কার বা ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হবে। দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে এই কর্মসূচি। প্রথম ধাপের কাজ ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে এবং দ্বিতীয় ধাপের কাজ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানো এবং চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ব্যবধান কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন জোরদার ও গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নতুন কূপ থেকে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কূপ খননের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৭৭টি কূপ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত চারটি কূপের সংস্কারকাজে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে ৫১টি কূপের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩২টির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ১১টি কূপে কাজ চলছে। বাকি আটটি কূপের কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ছাড়া প্রক্রিয়াধীন ১০টি প্রকল্পের আওতায় আরও ২৬টি কূপের অনুমোদন চাওয়া হবে। অবশিষ্ট ৭৩টি কূপ পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অনুমোদনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কূপ খননে মিলছে নতুন গ্যাস

পরিকল্পনা কমিশনের হিসাবে, ইতিমধ্যে কাজ শেষ হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ১১টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন ১১টি কূপের মধ্যে সাতটি বাপেক্সের। এগুলো হলো সুন্দলপুর দক্ষিণ-১, ভোলা উত্তর-৩, ভোলা উত্তর-৪, শাহবাজপুর উত্তর-পূর্ব-১, শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ দক্ষিণ-১। এ ছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিনটি কূপ- তিতাস-২৯, বাখরাবাদ-৭ ও তিতাস-৩১ ডিপ এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) রশীদপুর-১৩ কূপে কাজ চলছে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ খনন প্রকল্প। অনুমোদন পেলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কূপ দুটির খননকাজ সম্পন্ন করা হবে।


চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম

দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বাস্তবে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক গড় সরবরাহ মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই সরবরাহের মধ্যে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি থেকে আসছে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো দিচ্ছে ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ৩৩ শতাংশ। আর দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর অবদান ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট বা ২৬ শতাংশ।

দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিজিএফসিএল দৈনিক ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট, এসজিএফএল ১৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাপেক্স ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরন দিচ্ছে ৮৬১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ক্রিসএনার্জি বাংলাদেশ দিচ্ছে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ২৬২টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১৯টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। এসব কূপের ৭৬টি পরিচালনা করছে দেশীয় কোম্পানি এবং ৪৩টি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি।

কোম্পানিভিত্তিক খনন পরিকল্পনা

সরকারের কর্মপরিকল্পনায় দেশীয় তিনটি গ্যাস কোম্পানির জন্য আলাদা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাপেক্সের ২১টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে ৯টির কাজ শেষ হয়েছে। বিজিএফসিএলের ১৩টির মধ্যে সাতটি এবং এসজিএফএলের ১৬টির মধ্যে ১৩টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি নতুন কূপ এবং ৩১টি ওয়ার্কওভার করা হবে। এই ধাপে বাপেক্স ৬৮টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে ৫২টি নতুন খনন এবং ১৬টি সংস্কার করা হবে। বিজিএফসিএল ২১টি কূপের কাজ করবে, যার মধ্যে ৯টি নতুন খনন ও ১২টি সংস্কার। অন্যদিকে এসজিএফএল ১১টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে আটটি নতুন খনন এবং তিনটি সংস্কার করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ৫২টি নতুন কূপ খননের জন্য ১৪টি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বাপেক্স। এর মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং সাতটি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এই কর্মসূচির আওতায় এখনো কোনো কূপের খননকাজ শেষ হয়নি।

বিজিএফসিএল নয়টি নতুন কূপ খননের জন্য চারটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসজিএফএল আটটি নতুন কূপ খননে পাঁচটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এই দুই কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর কোনোটিই এখনো অনুমোদন পায়নি।

সময়ের আলো/এসকে

  বিষয়:   বছর  শতাধিক  গ্যাসকূপ  খনন  উদ্যোগ  নিয়েছে  সরকার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: