প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ এএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ১:২৪ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশয়ী হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির। আরেক দিকে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনাকে ট্রাম্প এবং ইসরাইলের জন্য একটি ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইসরাইলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। গাজায় ইসরাইলের নীতি ও মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরে ওয়াশিংটন-ইসরাইল সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। এই ফলকে তারা ‘নীল সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভ তাদের ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘একমাত্র ট্রাম্পই হেরেছেন এমন নয়; নির্বাচনের এই ফল ইসরাইলে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে’। সংবাদপত্রটি উল্লেখ করে, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ওয়াশিংটনের ইসরাইল নীতি পরিবর্তনের একটি ধারা শক্তিশালী হবে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে মেইনে অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের বিজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি ১৯৯৭ সাল থেকে আসনে থাকা প্রখ্যাত ইসরাইল-সমর্থক রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করেছেন। জ্যাকসন তার প্রচারে ইসরাইলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মারিভ জানায়, এটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইসরাইল নীতি বদলাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ওপর চাপ বাড়াবে। ইয়েদিওথ আহরোনথ পত্রিকা শিরোনাম করেছে ‘ট্রাম্পের অপমানজনক পরাজয় : ঐতিহাসিক নীল সুনামিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের দখলে’। পত্রিকাটি উল্লেখ করে, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলো দখল করে নেওয়ায় ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার হাত-পা বেঁধে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন একটি দুর্বল সরকারে পরিণত হতে যাচ্ছে।
ইসরাইল হাইওম পত্রিকা বলেছে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করায় এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে বিচারক, রাষ্ট্রদূত ও শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা চলে যাওয়ায় ইসরাইল এখন একটি চরম সমালোচনামূলক কংগ্রেসের মুখোমুখি হবে। ট্রাম্প চলতি বছরের শেষে ইসরাইলকে বাৎসরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণার বিষয়ে পত্রিকাটি মনে করিয়ে দেয় যে, ইসরাইলি তহবিলের কেনাকাটাও কংগ্রেসের নজরদারিতে থাকবে। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার অন্তত পাঁচ সদস্য থাকবে, যার মধ্যে দারিওলাইজা অ্যাভিলা শ্যাভালিয়ার মঙ্গলবার স্পষ্ট বলেছেন সামরিক সহায়তা বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ নির্বাচনের ফলকে ‘ট্রাম্প ও ইসরাইলের জন্য বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান পদগুলো ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় অস্ত্র চুক্তি ও চালানের ওপর নজরদারি কঠিন হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক নীতির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে