প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম (ভিজিট : ৩৯৪)
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। লাগাম টেনে ধরা না গেলে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। কয়েক মাস ধরে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বেড়ে গেছে চাল, চিনি ও ভোজ্য তেলের দাম। শুধু তাই নয়, অত্যাবশ্যকীয় এসব পণ্যের দাম কমানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা বিবেচনায় না নিয়ে বরং দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যবসায়ীদের এ অপকৌশলের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে না। এ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যমূল্য নির্ধারণ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার ওপর তাগিদও দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে, তারা বর্তমানে আমদানি কারক ও ব্যবসায়ীরা যে দামে তেল বিক্রি করছে আপাতত সে দামে ভোজ্য তেল বিক্রি করতে বলেছে।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়েছে বিপণন কোম্পানিগুলো। তাদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এক মাস আগে প্রতিটন সয়াবিনের মূল্য ছিল ৭৮০ ডলার, কিন্তু সেটি বেড়ে এখন হয়েছে ৯২০ ডলার। প্রশ্ন হচ্ছে, এখন বাজারে যে তেল রয়েছে তা দুই মাস আগে আমদানি করা। বাড়তি মূল্যের তেল এখনও বাজারে আসেনি। গত বাজেটে ভোজ্য তেলে কর বাড়ানো হয়েছে। তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। ছয় মাস পর হঠাৎ করেই বাজেটের দোহাই দিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হলো কেন?
কয়েক মাস ধরে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ে দেশের মানুষ বিপাকে রয়েছে। কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করছে প্রতিদিন। কোনো পণ্যের দাম কমেছে আবার কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যখন সহনীয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় থাকে, তখন দেশের মানুষের জীবনে স্বস্তি থাকে। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নিম্ন আয়ের পরিবারে দেখা দেয় হাহাকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য নেমে আসে জনদুর্ভোগ। সম্প্রতি পেঁয়াজের মূল্য আকাশছোঁয়া হওয়ায় তেমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তেলের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যের অস্থিতিশীলতার অর্থÑ দেশের বেশিরভাগ মানুষকে চাপে ফেলে দেওয়া। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রায়োজন। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে একচেটিয়া বাজার দখলে নিতে না পারে, সে জন্য টিসিবিকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছে বিভিন্ন মহল। অথচ এ ব্যাপারে আশানুরূপ উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য বেড়ে চলার মূলে নানাবিধ কারণ থাকে। চোরাকারবারি, মজুদদারি ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ গ্রহণ করে। তারা জিনিসের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে থাকে।
পণ্যমূল্য নির্ধারণে আইনের প্রায়োগিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ আইনের আওতায় পণ্যের দাম নির্ধারণ, চোরাকারবারি প্রতিরোধ, ফড়িয়া ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমানো, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিতে পারে।
দেশের মানুষ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে এমনিতে নাজেহাল তার মধ্যে ভোগ্যপণ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে সবার মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়ম বহিভর্‚ত কেউ কেনাবেচা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের চাহিদা। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আন্তরিক হলে জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় ভোজ্য তেলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জনগণ বর্তমান অবস্থার উত্তরণ আশা করে। দেশের মানুষ স্বস্তির নিশ^াস ফেলতে চায়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যাতে করেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়। সব শেষ কথা হলো, সিন্ডিকেট যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে না পারে।