প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম (ভিজিট : ৪৯৩)
বিদায় ২০১৯ সাল। স্বাগতম ২০২০। বিদায়ি বছরটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে অনেক স্মৃতি। যার কিছু কষ্টের, কিছু আনন্দের। শিক্ষণীয়ও রয়েছে কিছু কিছু। সেই সঙ্গে নানা হতাশার মধ্যেও নতুন বছরটিতে প্রত্যাশার হাল ছাড়ছে না আশাবাদী মানুষ। আসন্ন সালের নতুন সবকিছু নিয়েই মানুষের কৌত‚হল চরমে থাকে। আর সেই হিসাব মতো, ২০২০ সাল কেমন কাটবে তা নিয়েও রয়েছে মানুষের মধ্যে বহু ভাবনা, কৌত‚হল। ভাগ্য বা রাশিফল বিশ^াস না করা অনেকের মধ্যেও নতুন বছর নিয়ে একটু আধটু নড়াচড়া। বিভিন্ন রাশির জাতকদের কাছে গতটা তেমন ফ্যাক্টর হয় না। তারা বেশি কৌত‚হলী আসন্নটা নিয়ে।
বছরের শেষদিকে এসে তুমুল বিতর্কেও জন্ম দিয়েছে রাজাকারের তালিকা। বিজয়ের মাসে অপমানিত করা হলো মুক্তিযোদ্ধাদের। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে সেই তালিকায় ঢুকিয়ে ইতিহাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের পাকাপাকিভাবে গেঁথে রাখার উদ্যোগটি মাঠে মারা গেছে। এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নানা মন্তব্যে হাসির জোগান দিয়েছেন ডিসেম্বর জুড়ে। এক পর্যায়ে বাতিল করা হলেও এ তালিকা স্বাধীন বাংলাদেশে রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধাদের একাকার করে দিল। ভবিষ্যতে তাদের আলাদা করার কাজটি কঠিন হয়ে গেল। মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিকে অন্যায়, অনৈতিক এবং নিষ্ঠুরতার সঙ্গে যুক্ত করা এ বছরের আরেক দুর্ঘটনা-পরিহাস। ডাকসু ভিপি নুরকে দফায় দফায় পেটানো ছাড়াও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, নৈরাজ্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ আশপাশের আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করে দিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের অর্বাচীন সংগঠনটি।
গোটা বছরই অস্থিরতায় কেটেছে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো। নিয়োগ-দলীয়করণ, শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় গেছে। ভিসি কাÐে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় সারা বছরই ছিল মিডিয়ার সাবজেক্ট। আর শিক্ষাঙ্গনে সারা বছরই নানা রকম খারাপ খবরের শিরোনামে থেকেছে ছাত্রলীগ। লিচু চুরি থেকে ধর্ষণ, খুন, নির্যাতন, শিক্ষককে পুকুরে ছুড়ে ফেলা কিছুই বাদ দেয়নি তারা। বুয়েটে আবরারকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় ঘটেছে তাদের সন্ত্রাসের উলঙ্গ প্রকাশ।
প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড উন্নতিকরণ, বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবসহ নানা দাবিতে বছর জুড়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন শিক্ষকরা। বুয়েটে মেধাবী ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ডাকসু ভিপি নুরকে নন-স্টপ পিটুনি, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামধারীদের সন্ত্রাস বিদায়ী বছরের কলঙ্ক হয়ে থাকবে। কিছু অনিয়ম হলেও ২৭৩০ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে, বরগুনায় রিফাত শরীফকে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে, বুয়েটে মেধাবী ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে বিশে নীল করেছে। এ ছাড়া বছরটির আরও কিছু ঘটনা জাতীয় জীবনকে প্রচÐভাবে প্রভাবিত করেছে।
বছরের মাঝামাঝিতে ক্যাসিনোকাÐ গোটা জাতিকে হতবাক করেছে। নতুন এক দুষ্টুচক্রের আবির্ভাব সম্পর্কে জেনেছে মানুষ। সরকার বছরের পর বছর ধরে চলা এই হায়েনা-লুটেরাকাÐের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেছে সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে। কাগজ-কলমে এ অভিযান এখনও চলমান। সারা দেশে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে যখন রাজনীতির মাঠ টালমাটাল তখন সংসদেও এর আঁচ লাগে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দের মধ্য দিয়ে কালিমা লাগতে থাকে একাদশ সংসদের গায়ে।
ক্যাসিনো দমাতে না দমাতেই দুর্দমনীয় হয়ে ওঠে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট। সারা দেশকে পেঁয়াজের ঝাঁঝে কাঁদিয়ে ছেড়েছে তারা। পেঁয়াজ আনতে উড়োজাহাজের সাহায্য নিয়েও পেরে ওঠেনি সরকার। এর মধ্য দিয়ে একটি কঠিন বার্তা পেয়েছে দেশ তথা সরকার। ভবিষ্যতে উৎপাদন-আমদানি, মজুদসহ পেঁয়াজের অন্যান্য হালনাগাদ সঠিক তথ্য কত জরুরি সেই আলোকে কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছে পেঁয়াজ।
গোটা বছরটা আগুন ছিল আরেক আতঙ্ক। রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি অগ্নিকাÐে প্রাণহানির ঘটনা মানুষের মধ্যে এ আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যাদের অফিস এবং বসবাস বহুতল ভবনে, তাদের সবার মধ্যেই যেন আগুন হয়ে গেছে মূর্তিমান আতঙ্ক। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাÐের সূত্রপাত হয় ২০ ফেব্রæয়ারি রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট টানা ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাÐে নিহত হয় ৭১ জন, আর আহত হয় শতাধিক। ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাÐ ঘটে ২৮ মার্চ। ২২ তলা ভবনের অষ্টম তলা থেকে দুপুর ১টায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা পরে অন্যান্য তলায়ও ছড়িয়ে পাড়ে। ভবন থেকে নিচে পড়ে মারা যায় বেশ কয়েকজন। এ অগ্নিকাÐে ২৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০ জন আহত হয়। সাকুল্য হিসাবে বিদায়ি বছরের প্রথম এগারো মাসে সারা দেশে অগ্নিকাÐ ঘটেছে ২২ হাজার ২৮৩টি, যা ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ সময় নিহত হয়েছে ১৫৪ জন, আর আহত ৩৭৭ জন। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২০৩ কোটি টাকার।
বিদায়ি বছরে প্রাকৃতিক আজাবের মতো মশা ভুগিয়েছে মানুষকে। ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া কেড়ে নিয়েছে রেকর্ডসংখ্যক প্রাণ। সরকারি হিসাবে মারা গেছে ১২১ জন। বাস্তবে, তা আরও বেশি। যদিও এ বছর এডিস মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থা। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এডিস মশা নিধনের এ ব্যর্থতায় দেশে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। শেয়ারবাজার-ব্যাংকপাড়াসহ অর্থ সেক্টরে ভালো খবরের আকাল গেছে ২০১৯ সালে। ব্যাংকিং সেক্টরে নৈরাজ্য, খেলাপি ঋণ সীমা ছাড়িয়েছে। মূলধনের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে খেলাপি ঋণের অঙ্ক। সর্বশেষ হিসাবে দেশের সবকয়টি ব্যাংকের মোট মূলধন ৯২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা।
আর শেয়ারবাজার পরিণত হয় আরেক ক্যাসিনো রাজ্যে। বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেলেও জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই ছন্দপতন ঘটে তাতে। ক্রমাগত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, যার প্রভাবে বাড়তে থাকে বিক্রয় চাপ। এক সময় সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্তি¡ক সীমার নিচে নেমে যায়। শেয়ারবাজারের সবচেয়ে প্রভাবশালী পাঁচ কোম্পানির শেয়ার দর কমার বিষয়টিও বাজার পতনে ভ‚মিকা রেখেছে। সরকার উদাসীন থাকেনি। একের পর এক প্রণোদনা-হুমকিসহ নরম-গরম উদ্যোগে লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সাফল্য আসেনি।
মানুষের মধ্যে বিশ সালে এই বিষমুক্তির পরম কামনা থাকলেও বাস্তবে সেটা কোন পর্যায়ে যায়Ñ এ নিয়ে অন্তহীন টেনশন। এর কারণও বিদ্যমান। ব্যাংকিং সেক্টরে এ দশার সঙ্গে সমানে চলেছে বিদেশে অর্থ পাচার। সেটার বিহিত করা যায়নি। শেয়ারবাজারের অবস্থাও করুণ। সেটা আরও গড়াবে না থামবে, হলফ করে বলার জো নেই। উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে করুণ অবস্থার মধ্যেও টিকে থাকা বিদেশে শ্রম রফতানি খাতটিও ঝুঁকিতে। সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় কর্মী নিয়োগে ব্যাপক মাত্রায় সৌদিকরণ চলছে। এর অংশ হিসেবে অনেকগুলো পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নবায়ন করা হচ্ছে না বিদ্যমানদের কাজের অনুমতিপত্র (আকামা)। এতে চাকরি হারাচ্ছেন বহু বাংলাদেশি।
প্রচুর সংখ্যক রেমিট্যান্স পাঠানোর মেশিন প্রবাসীর মৃত্যু আরেক বেদনাগাথা ঘটনা। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট ৫১ জন নারী গৃহকর্মী মারা গেছেন। এর মধ্যে আত্মহত্যাই করেছেন ২২ জন। খুন হয়েছেন একজন। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশিদের অবস্থা করুণ। জাপান, মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে বেশ খরা যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান দেশেও কড়াকড়ি।
অর্থনৈতিক-সামাজিক দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করার একটি রেওয়াজ সব দেশেই চলে আসছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। বিদায়ি বছরেও এ প্রশ্নে সরকার ছিল নির্ভার। চিন্তামুক্ত। বিরোধীদলের আন্দোলন বলতে কিছুই ছিল না। নানা জল্পনা কল্পনার পর বছরের গোড়ার দিকে প্রশ্নযুক্ত একাদশ সংসদ গঠন হলেও উত্তাপ ছাড়েনি। ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু হয় একাদশ সংসদের। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও সংসদীয় সৌন্দর্য দেখা হয়নি মানুষের। ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা শপথ নিলেও বয়কট করেন বিরোধী জোটের নির্বাচিত আটজন। এটি ছিল সংসদে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অবশেষে যখন পুনরায় নির্বাচনের দাবি তুলে ব্যর্থ হলো বিএনপি জোট, তখন নতুন হিসাবের খাতা খুলে বসলেন তাদের বিজয়ীরা। নির্বাচিত হয়ে সংসদে না গিয়ে কোনো দাবি আদায় করা যাবে না, বা শপথ না নিলেই এমন কী করতে পারবে এসব হিসাব কষতে কষতে ‘মান ভেঙে’ দফায় দফায় শপথ নিলেন বিএনপি ও তাদের জোটের সংসদ সদস্যরা। নির্বাচিত ঘোষণার পরও শপথ নেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সব মিলিয়ে তাদের ফলাফল ছিল তথৈবচ।
কয়েকটি বিয়োগান্তক ঘটনাও ঘটেছে ঊনিশে। ইচ্ছে থাকলেও সংসদে আসা হয়নি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। তিনি শপথ না নিয়েই না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আবার শপথ নিয়েও সংসদে কথা বলা হয়নি বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দুয়েক দিন সংসদে গেলেও কথা বলার ভাগ্য হয়নি তার। বিদায়ি বছরে সংসদে ভিন্ন ধাঁচের ঘটনা ঘটে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সংসদে বাজেট উপস্থাপনার মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় একাদশ সংসদের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
এ বছর আরও কিছু ঘটনার সাক্ষী সংসদ। প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের সঙ্কট, উপর্যুপরি দুর্যোগের ভয়াবহ আঘাত, জীব-বৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি এবং সম্পদের অমিতাচারী ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে আনীত গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। তাই বছর শেষে এখনও সরকারি দল, বিরোধী দল হিসেবে কষছে একাদশ সংসদ গঠনের মধ্য দিয়ে কী পেলাম। আর কী হারালাম। বিদায়ি ২০১৯ সাল কেবল হতাশ করেছে ভাবলে ভুল হবে। আমাদের দেশের শিশুরা এ বছর আন্তর্জাতিক রোবট-সংক্রান্ত প্রতিযোগিতায় অনেক সোনা, রূপা এবং ব্রোঞ্জ পদক এনে দিয়েছে। এই সোনার শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু দুঃখ, কষ্ট, গøানি ভোলার চেষ্টা করা যায়।
ষ কলাম লেখক