ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

সুন্দর জীবন গঠনের পাথেয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 312

মুহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষকে সবাই ভালোবাসে। সাজানো-গোছানো ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র গঠন ইসলামের অন্যতম নির্দেশনা। আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন মোহনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। উম্মতকেও তিনি সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষাই দিয়েছেন। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ও কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে যে তোমাদের মধ্যে অধিকতর সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। আর আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ও আমার কাছ থেকে সবচেয়ে দূরে থাকবে বাচাল ও অহঙ্কারী।’ (তিরমিজি : ২১০৮)। মানুষের অন্তরের সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে যাপিত জীবনের আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা ও কাজকর্মের মাধ্যমে। তাই ইসলাম সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। এসব একজন ঈমানদার ব্যক্তির পার্থিব জীবনের অনিবার্য পাথেয়।
সত্যবাদিতা : সর্বদা সত্য কথা বলা মানুষের জীবনকে সুন্দর করে। সত্যবাদিতা ঈমানদারের অন্যতম সৌন্দর্য ও ভূষণ। সত্যবাদিতা মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়। আর মিথ্যা ধ্বংসের পথে পৌঁছে দেয়। তাই মহান আল্লাহ সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের কর্ম ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তারা অবশ্যই সফলকাম হবে।’ (সুরা আহজাব : ৭০-৭১)
সুন্দর কথা বলা : মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা সদকা সমতুল্য। সুন্দর কথা মানুষের অন্তরে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়া প্রতিটি দিবসেই মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর সদকা দেওয়া আবশ্যক হয়। দুজনের মধ্যে বিবাদ নিরসন করা সদকার সমতুল্য। কাউকে বাহনে উঠতে কিংবা কোনো সামগ্রী বাহনে তুলে দিতে সাহায্য করা সদকা। সুন্দর কথা বলা সদকা। নামাজে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা। পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা সদকা।’ (মুসলিম : ১০০৯)
বিনয় ও কোমলতা : কোমল ব্যবহার দ্বারা ব্যক্তি সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। বিনয় ও কোমলতার ছোঁয়ায় সবার মন হয়ে ওঠে আনন্দঘন। তাই রাসুল (সা.) সবার সঙ্গে অত্যন্ত কোমল আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ কোমলতাকে পছন্দ করেন। আল্লাহ কোমলতার বদলায় যা দেন, কঠোরতার কারণে তা দেন না।’ (বুখারি : ২৫৯৩)
কল্যাণ কামনা : সবার জন্য কল্যাণের প্রত্যাশা করা একজন মুসলমানের অন্যতম গুণ। পরামর্শ, উপদেশ, নির্দেশনাসহ অসংখ্য উপায়ে মানবসমাজের সব সদস্যের কল্যাণ কামনা করা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের ছয়টি অধিকার আছে।’ তখন বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, তা কী? তিনি বলেছেন, ‘মুসলিমের সঙ্গে তোমার দেখা হলে সালাম দেবে। তোমাকে ডাকলে সাড়া দেবে। তোমার কাছে পরামর্শ চাইলে উত্তম পরামর্শ দেবে। হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তুমি তার উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। আর মারা গেলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করবে।’ (মুসলিম : ২১৬২)
অনর্থক বিষয় পরিহার : সময় মানুষের মূল্য সম্পদ। একজন মুসলমানের অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়া অনুচিত। ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কাজকর্ম পরিহার করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কাজ পরিহার করা।’ (তিরমিজি : ২৩১৮)
অতিথিপরায়ণতা : অতিথির সমাদর ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। সাধ্যানুযায়ী অতিথির আদর-আপ্যায়ন করা একজন মুসলিমের অন্যতম কর্তব্য। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন কল্যাণকর কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে। কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন অতিথির সমাদর করে।’ (বুখারি : ৬০১৮)
রাগ নিয়ন্ত্রণ : প্রাত্যহিক জীবনে অন্যের ওপর রাগ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা ও প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকা মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তা অনেক বড় পুণ্যের কাজ। রাগ দমনকারীর মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচু। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা রবের ক্ষমার দিকে এবং আসমান ও জমিনের সমান বিস্তৃত জান্নাতের দিকে দৌড়ে যাও, যা খোদাভীরুদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৩-১৩)।
ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা : পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসায় মানুষ এগিয়ে এলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা অটুট থাকবে। তাই যে তা নিরসনে এগিয়ে আসবে, সে মহাপুণ্যের অধিকারী হবে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের রোজা, নামাজ ও সদকার চেয়ে অধিকতর উত্তম কাজের কথা বলব না?’ সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, ‘পরস্পরের মধ্যে বিবাদ নিরসন করা। কারণ পরস্পরের মধ্যে থাকা বিবাদই সবকিছু ধ্বংস করে।’ (তিরমিজি : ২৫০৯)। আল্লাহ তায়ালা বোঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com