ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সিপিডির মজুরি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩, ৬:৪৩ এএম  (ভিজিট : ১৩৩৮)
গত রোববার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা প্রস্তাব করেছিল। সিপিডির এই মজুরি প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করল গার্মেন্টস শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সোমবার (৯ অক্টোবর) বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

রোববার সিপিডি ৭টি গ্রেড থেকে কমিয়ে ৬টি করার প্রস্তাব করে। এতে ৫ ও ৬ গ্রেডকে একটি গ্রেড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য গ্রেডগুলোর মধ্যে ৫ নম্বর গ্রেডে ১৯ হাজার ৩১০ টাকা, ৪ নম্বর গ্রেডে ২১ হাজার ৮০৮ টাকা, ৩ নম্বর গ্রেডে ২৩ হাজার ৫৩৩ টাকা, ২ নম্বর গ্রেডে ৩৪ হাজার ৬০৩ টাকা এবং ১ নম্বর গ্রেডে ৪১ হাজার ৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয় সিপিডির পক্ষ থেকে। সিপিডির সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ জোট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ গত ১ অক্টোবর নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সপ্তম গ্রেডের জন্য ২৩ হাজার টাকা মজুরির ঐক্যবদ্ধ দাবি তুলে দিয়েছেন ঠিক তখনই সিপিডি এ ধরনের প্রস্তাবনা শ্রমিক সমাজের স্বার্থহানির নামান্তর। পরিষদ নেতারা অন্য কোনো প্রস্তাবনাকে না নিয়ে ২৩ হাজার টাকার বিষয়ে মজুরি বোর্ডকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় গার্মেন্টস শ্রমিক রাজপথে নামলে তা কারও জন্যই সুখকর হবে না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান, মহাসচিব বজলুর রহমান বাবলু এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন সহিদ সংবাদপত্রে এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা রোববার সিপিডি আয়োজিত গার্মেন্টস খাতের মজুরি প্রস্তাবনা শীর্ষক জাতীয় সংলাপে সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে সপ্তম গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য যে ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা প্রস্তাব করেছে, তাকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি। আমরা সিপিডিকে দেশের অন্যতম থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে অত্যন্ত সুনজরে দেখে আসছিলাম। কিন্তু সিপিডি কোন মন্ত্রবলে শ্রমিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ দাবির অঙ্ককে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের মঞ্জুরি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করল সেটাই আজ বড় প্রশ্ন। শ্রমিকদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি প্রস্তাবনা শুধু শ্রমিক সংগঠনের নিয়মিত কাজের একটি অংশ এবং দায়িত্ব। সেখানে এহেন প্রস্তাবনা আমাদের বিস্মিত এবং হতবাক করেছে।

এই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিপিডির গবেষণায় একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা দুজন এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩.৭৩ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত হিসাব হচ্ছেÑহাউস হোল্ড ইনকাম এক্সপেনডিচার সার্ভে-২০১৬ অনুযায়ী উপার্জনক্ষম পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১.৩৩ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে প্যারেন্ট কেয়ার অ্যাক্ট-২০১৩ অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবারের মা-বাবাকে সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি সেটিকে বিবেচনায় নেই তা হলে পরিবারের সংখ্যা কোনোক্রমেই পাঁচজনের নিচে হয় না।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো আরেক বিবৃতিতে সিপিডির মজুরি প্রস্তাব ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত সিপিডির এ প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মজুরি বৃদ্ধি দাবির আন্দোলনে সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সিপিডির মজুরি প্রস্তাবের ৫৫ শতাংশ মূল মজুরি এবং মূল মজুরির ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাব করা হয়। যদিও সংস্থাটি বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি শ্রমিক পরিবারের প্রয়োজনীয় খাবারের খরচ মাসে ১৬ হাজার ৫২৯ টাকা এবং খাদ্যবহির্ভূত খরচ ১২ হাজার ৮৮২ টাকা বলে দাবি করেছে। কিন্তু এই দাবি অনুুযায়ী মজুরি প্রস্তাব না করে গার্মেন্টস সেক্টরে সাম্রাজ্যবাদী একচেটিয়া লগ্নিপুঁজি এবং তার এ দেশীয় দালালপুঁজির প্রতিনিধিত্বকারী গার্মেন্টস মালিকদের স্বার্থে এই দায়সারা মজুরির প্রস্তাব উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামনে আনা হয়। জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বাজারদর অনুযায়ী একটা গ্রহণযোগ্য মজুরির দাবিতে যখন সবাই সোচ্চার তখন সিপিডির এই প্রশ্নবিদ্ধ মজুরি প্রস্তাব শ্রমিক অঙ্গনে প্রচ- ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। 

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, ২০১৮ সালে ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে যখন গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল তখনও এ সংস্থাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ২৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। যার ফলে তৎকালীন সময়ে সরকার ও মালিকগোষ্ঠী ৮ হাজার টাকার একটি প্রহসনমূলক মজুরি নির্ধারণ করে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সিপিডি একেকটি শ্রমিক পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ৩ দশমিক ৭ হিসেবে গণনা করেছে। তার মধ্যে উপার্জনক্ষম সদস্য দেখিয়েছে দুজন। অথচ প্যারেন্ট কেয়ার অ্যাক্ট-২০১৩ অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবারের মা-বাবাকে সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক বিধায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা অন্তত ছয়জন ধরে মজুরির হিসাব করা হয়। একই সঙ্গে হাউস হোল্ড ইনকাম এক্সপেনডিচার সার্ভে-২০১৬ অনুযায়ী উপার্জনক্ষম পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১.৩৩ ধরা হয়েছে। নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ইতিমধ্যে গার্মেন্টস সেক্টরের মজুরি বোর্ডের মেয়াদ ছয় মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে এবং বোর্ডের তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বোর্ডে মজুরি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি। বরং প্রায় বছরখানেক আগে থেকে শ্রমিকদের উত্থাপিত ২৫ হাজার টাকা মজুরির প্রস্তাব আমলে না নিয়ে সিপিডির এই মজুরি প্রস্তাবের মাধ্যমে মজুরি নিয়ে মালিকগোষ্ঠীর সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হচ্ছে। মালিকরা একদিকে মজুরি ঘোষণা করতে ‘বিলম্ব কৌশল’ অবলম্বন করছে, অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী একচেটিয়া লগ্নিপুঁজির সৃষ্ট দালাল কথিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডিকে দিয়ে মজুরির দাবিকে বিভ্রান্ত করে মজুরির আন্দোলনকে দুর্বল করার হীন তৎপরতা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত উন্মোচন করে বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিম্নতম মজুরির দাবি অগ্রসর করে নেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সময়ের আলো/জেডআই




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close