ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

স্কুলে কেন আগুন, রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীলতা কাম্য
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩, ২:৫১ এএম  (ভিজিট : ৫৫০)
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে এখন শিক্ষাবর্ষের শেষ সময় চলছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এ কারণে এ বছর নভেম্বরেই বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। কিছু কিছু স্কুলে পরীক্ষা শুরুও হয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ স্কুলে শেষ পর্যায়ের পাঠদান চলছে।

বিএনপি ও জামায়াত ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। এর বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ দল হরতাল ডাকে। পরে রোববার ও সোমবার এই দুদিন ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। হরতালসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 

এ অবস্থায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় তিন কোটি পড়–য়ার পড়াশোনা নিয়ে একধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কেননা যানবাহনে আগুনের ঘটনায় ভয় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অভিভাবকদের মনেও উদ্বেগ কাজ করছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম থেকে জানা গেছে।  

এর মধ্যে রোববার ভোরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গিলাশ্বর আবদুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সোমবার সময়ের আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওরে পাচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা ভাঙচুর করা হচ্ছে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত পরিবহন। এসবের বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন আগুন দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। দাবি আদায়ে হরতাল-অবরোধ দেওয়া রাজনৈতিক দলের অধিকার। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে বাস পোড়ানো, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়াসহ ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অধিকার কারও নেই। এসব ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন দেশের সাধারণ মানুষ। 

দেশের সহিংস রাজনীতির কবলে পড়ে স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীরা তাদের চোখের সামনে হরতাল-অবরোধে মানুষ পুড়তে দেখেছে, তাদের বিদ্যাপীঠ পুড়তে দেখছে। এতে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড শিশুদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন মনস্তত্ত্ববিদরা। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব; কিন্তু তাদের মানসিক ক্ষতি পোষাতে আমাদের দীর্ঘ সময় লাগবে।
  
রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যাতে নতুন কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তারা এ বিষয়ে আরও আন্তরিক হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

সময়ের আলো/জেডআই




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close