ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

তিন বছরে গচ্চা ১৭ হাজার কোটি টাকা, অনিয়ম কমিয়ে সেবার মান বাড়াতে হবে
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৩০ এএম  (ভিজিট : ২৯০)
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাষ্ট্রের একটি বৃহৎ সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে রেলযুগে প্রবেশ করে এ দেশের মানুষ। রেলকে অনেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবহিত করলেও পরিবেশ, অর্থনীতি, জনসেবা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয়ে রেলের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনা করলে দেখা যাবে, রেল কখনোই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল না। 

পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে রেল একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আমাদের সীমিত সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্নআয় ও কৃষিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব ব্যাপক। রেল একটি স্থায়িত্বশীল অবকাঠামো, রেলে অনেক যাত্রী একসঙ্গে পরিবহন করা যায়। ফলে জ্বালানি এবং ব্যবস্থাপনা খরচ সড়কপথ অপেক্ষা রেলে অনেক কম।

অথচ প্রতি বছরই লোকসান গুনছে রেলওয়ে। রেলের গড় লোকসান বছরে দেড় হাজার কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ, তবুও লোকসান। কমছে গতি। বাড়ছে দুর্ঘটনা। যাত্রীসেবা নিয়ে অসন্তোষের শেষ নেই। রোববার সময়ের আলোয় এসেছে, রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে গত ১০ বছরে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা। নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি কেনা হয়েছে নতুন বগি ও ইঞ্জিন। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়লেও সেবার মান যেমন বাড়েনি তেমনই কমানো যায়নি পরিচালন ব্যয়। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থায় ভারী হয়েছে লোকসানের পাল্লা। গত দুই বছরে রেলের লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর ১৩ বছরে ট্রেন চালিয়ে গচ্চা দিতে হয়েছে ১৬ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। 

তুলনামূলক নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য দেশের বেশিরভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ রেল। তবে প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেবার মান ও রাজস্ব আয় না বাড়লেও বছর বছর বেড়েই চলেছে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয়, যার বেশিরভাগই খরচ হয় এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের পেছনেই। এছাড়াও রেলওয়েতে রয়েছে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। আয়ের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়ের কারণে ভারী হচ্ছে লোকসানের পাল্লা। 

তবে সম্প্রতি রেলের বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। কিছুটা মান বেড়েছে যাত্রীসেবার। বেড়েছে বাজেট, নেওয়া হয়েছে বেশকিছু মেগা প্রকল্প। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে হয়তো আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বাংলাদেশের রেল। তবে এসবের বিপরীতে কেনাকাটা আর প্রকল্পে রেল কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। জাতীয় স্বার্থেই রেলকে শক্তিশালী করতে হবে। আমরা মনে করি, লোকসান কমানো লক্ষ্যে রেলওয়ের অনিয়ম বন্ধ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সময়ের আলো/আরএস/ 




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close