নৌকা প্রতীক না দেওয়ার নেপথ্যে

সমীরণ রায়

রাজনীতি

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি নৌকা প্রতীক থেকে

2024-01-24T03:23:56+00:00
2024-01-24T03:23:56+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
রাজনীতি
নৌকা প্রতীক না দেওয়ার নেপথ্যে
সমীরণ রায়
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪, ৩:২৩ এএম   (ভিজিট : ৭৪৫)
নৌকা প্রতীক না দেওয়ার নেপথ্যে
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি নৌকা প্রতীক থেকে সরে আসার নেপথ্যে রয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি হয়ে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলীয় প্রতীক নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার সুযোগ রেখেছিল আওয়ামী লীগ। এতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকারে দেখা দিয়েছে। সঙ্গত কারণে আসন্ন উপজেলা পরিষদ, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও ৯ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা প্রতীক রাখা হলে এই দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে এই দ্বন্দ্ব আর যাতে না বাড়ে তার জন্য সারা দেশে দলের ৮ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বন্দ্ব নিরসনে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, আপনারা এলাকায় যাবেন। কোন এলাকায় কী অবস্থা সেটি আগে অবজারভেশন করবেন। এরপর নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সামর্থকদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে তা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেই পদক্ষেপ নেবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের ৮ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা কীভাবে এই দ্বন্দ্ব নিরসন করবেন, সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দ্বন্দ্ব যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব না ফেলে সে জন্য নৌকা প্রতীক এই নির্বাচনে থাকছে না। 
বিএনপি সরাসরিভাবে নির্বাচনে না এলেও তাদের অনেক নেতা নির্বাচন করবেন। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলে সেই প্রভাব আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে পড়বে। এ কারণেই উপজেলা নির্বাচনের তফসিলের আগে সবাই ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনা যদি কেউ না মানেন, সে বিষয়টিও দলের সভানেত্রীকে অবহিত করা হবে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সময়ের আলোকে বলেন, গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে অনেক বড় প্রভাব পড়েছে। নৌকা প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে না পারলে আগামী ১০ বছরেও তা শেষ হবে না। বরং এর প্রভাব দিন দিন বাড়তেই থাকবে। এ কারণেই আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার যার মতো করে নির্বাচন করবে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, সেটি কিছুটা লাঘব হবে। কারণ একে অন্যের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট চাইতে যাবেন। তারা এই দ্বন্দ্ব ভুলে যাবেন। 

সূত্র বলছে, গত সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের প্রশ্ন করেন, উপজেলা পরিষদ, দুই সিটি করপোরেশন ও নয়টি পৌরসভা নির্বাচন শিগগিরই হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে আমরা দলীয় প্রতীক রাখব কি না? 

এ সময় দলীয় নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীক নৌকা না থাকাই ভালো। দলীয় প্রতীক নৌকা শুধু জাতীয় নির্বাচনে থাকা উচিত। এতে এলাকায় নেতারা তাদের জনগণের সঙ্গে কার কতটুকু সম্পৃক্ততা রয়েছে সেটি স্পষ্ট হবে। 

এমনিতেই গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় তৃণমূলে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নৌকা প্রতীকের বাইরে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া যে জাতীয় প্রতীকগুলো আছে তাতে নির্বাচন হলে ভালো হয়। এ সময় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যা বলেছেন এটাই ঠিক। আমি দলের বাইরে যেতে পারি না। আপনাদের কথামতো আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীক নৌকা দেওয়া হবে না। যে যার মতো নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জাতীয় প্রতীকে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। এতে এলাকায় কার কতটুকু জনপ্রিয়তা সেটিও বোঝা যাবে। তবে বিএনপি তারা বলেছে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু বিএনপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনের অংশ নিয়ে তাদের নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়, তখন আওয়ামী লীগও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে কি করবে না সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক দেবে না।

গত সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় প্রতীক নৌকা দেবে না। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থী সব মিলিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় তার রেশ এখনও রয়ে গেছে। তা দূর করতে দলের যে আটটি বিভাগীয় কমিটি রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বলে ঢাকায় ডেকে এনে তা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সময়ের আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, এমনকি পৌরসভা নির্বাচনেও কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে না আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সময়ের আলোকে বলেন, আমরা দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা, নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের সঙ্গে বসব। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব, তারা যাতে তাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, সেটি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। যেহেতু দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা নেই। তাই তাদেরকে বোঝাতে হবে। আগামী উপজেলা নির্বাচনের আগেই আমরা এই দ্বন্দ¦ নিরসন করতে চাই।

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত নন্দী রায় সময়ের আলোকে বলেন, দলীয় সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের সঙ্গে বসব। তারা যাতে দলকে শক্তিশালী করতে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে। আমরা আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই দ্বন্দ্ব নিরসন করতে পারব।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: