কতটা নিরাপদ নেট দুনিয়া

শাকিল আহমেদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, লিঙ্কডইন বা হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীর

2021-12-22T09:48:53+00:00
2021-12-22T09:48:53+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
কতটা নিরাপদ নেট দুনিয়া
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯:৪৮ এএম 
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, লিঙ্কডইন বা হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীর একটি প্রোফাইল রয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত চলে ব্যক্তিগত তথ্যের আদান-প্রদান। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মাসে ২৬০ কোটি ব্যবহারকারী এক দিনের জন্য হলেও ফেসবুকে ঢুঁ মারেন। 

বাংলাদেশেও এ ব্যবহারকারীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নেটদুনিয়ায় ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত? চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজারে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার। মোট ব্যবহারকারীর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার। অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড (আইএসপি ও পিএসটিএন) ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে। ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের সংখ্যা ৯৮ লাখ ১০ হাজার, ফেব্রুয়ারি শেষে যা ছিল ৯৫ লাখ ২২ হাজার। 

বিটিআরসি বলছে, মার্চের শেষে দেশে মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার, ফেব্রুয়ারি মাসে যা ছিল ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার। এক মাসের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ১২ লাখ ৭৩ হাজার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জার্মানভিত্তিক বাজার গবেষণা ও সংবাদ সংস্থা স্ট্যাটিস্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহার করে ভারত। দেশটির ৩২ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে। ভারতের পরই রয়েছে ফেসবুকের জন্মস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ কোটি মানুষ মার্ক জাকারবার্গের এই আবিষ্কার ব্যবহার করে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৪ কোটি আর ব্রাজিলে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি। এক জরিপে দেখা গেছে, যত মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে তার মধ্যে ৮০ ভাগই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিচরণ করে ফেসবুকে।

অন্যদিকে নেটদুনিয়ায় প্রায়ই হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। গোপন থাকছে না গোপন তথ্য। হ্যাকিং করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য। এরপর এটি সর্বত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে। ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছে ব্যবহারকারীরা। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চলছে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রসহ নানা অপরাধ। সামাজিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও অবৈধ অ্যাক্সেস রোধ করতে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। সেখানে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরাও রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন আড়ি পাতার সফটওয়্যার তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ও তাদের গ্রাহকরা প্রায় ১০০টি দেশের অধিকারকর্মী, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ ও সাংবাদিকদের নজরদারিতে রেখেছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও পেজগুলো সরিয়ে নিয়েছে মেটা। এরপর ১৭ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বলা হয়েছে, যে সাতটি প্রতিষ্ঠানের আড়ি পাতার বা নজরদারির সফটওয়্যার এসব কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো হলো ইসরায়েলের ব্ল্যাক কিউব, কবওয়েবস টেকনোলজিস, কগনাইট, ব্লুহোয়াক সিআই। এ ছাড়া রয়েছে ভারতের বেলট্রক্স, উত্তর মেসিডোনিয়ার সাইট্রক্স ও চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে চীনের প্রতিষ্ঠানটির নাম উল্লেখ করেনি মেটা।

মেটার প্রতিবেদনে বলা হয়, কবওয়েবসের নজরদারিতে রয়েছেÑ বাংলাদেশ, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, সৌদি আরব ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়-আশায় তারা নজরদারি করত। মেক্সিকো ও হংকংয়ে সরকারের কর্মকর্তা, বিরোধী নেতা ও অধিকারকর্মীদের ওপর প্রায়ই নজরদারি করা হতো। কোন কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তারও একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, কবওয়েবসের নিজেদের অ্যাকাউন্ট ও তাদের গ্রাহকদের প্রায় ২০০টি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ফ্লিকার, জনসাধারণ ব্যবহার করে এমন ওয়েবসাইট ও ‘ডার্কওয়েবে’ নজরদারি করা যায়, এমন প্রযুক্তি বিক্রি করে কবওয়েবস। এই নজরদারি ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যও সংগ্রহ করা যায় এই কবওয়েবসের প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের প্লাটফর্মগুলোয় থাকা প্রায় দেড় হাজার পেজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব পেজ ব্যবহার করে মূলত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

মেটার প্রতিবেদন সম্পর্কে সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ফেসবুক একটা ওপেন প্লাটফর্ম। দুয়েকজন প্রোফাইল লক করে রাখলেও বাকিরা কিন্তু ওপেন প্লাটফর্মে। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের ডাটা নজরদারির জন্য বিশেষ কোনো সফটওয়্যারের দরকার নেই। যার যেখানে স্বার্থ আছে সে সেখানে নজরদারি করতেই পারে। মন্ত্রী বলেন, আড়ি পাতা ও নজরদারি অন্য প্লাটফর্মে হবে। যে বিষয় গোপন থাকে তার ওপর আড়ি পাতা যায়; কিন্তু যে বিষয় ওপেন সেখানে আড়ি পাতার কিছু নেই। হোয়াটসঅ্যাপস হলে হতে পারে এটা গোপন ডাটা। ফেসবুক কি নজরদারি করে না, ডাটা বিক্রি করে না, ব্যক্তিগত তথ্য বিলিয়ে দেয় না? এত ভালো মানুষ সাজছে কেমনে? প্রশ্ন মোস্তাফা জব্বারের। রাষ্ট্রের ওপর নজরদারি আমাদের মেকাররাও করেন, যেসব অ্যাকাউন্ট দেখা দরকার তারা খবরদারি করে।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা সময়ের আলোকে বলেন, সাধারণত রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের নজরদারি করতে পারে। কিন্তু বহির্বিশ্ব ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নজরদারি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার কোন সাহসে এটা তারা করেছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, আড়ি পাতা কিংবা নজরদারিকে হ্যাকিং বলা যাবে না, এটা অবৈধ অ্যাক্সেস। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তারা অ্যাক্সেস নিচ্ছে। ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম তারা দেখতে পাচ্ছে। যারা এই সফটওয়্যার বানিয়েছে তারা তো আমাদের ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল করতে পারে না। এই সফটওয়্যারগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মোবাইল ফোন, রাউটার, বিটিএস সবকিছু দেশের বাইরের। বাংলাদেশে কোনো প্রযুক্তি নেই। আমাদের দেশে একটা ভুয়া ফেসবুক আইডি শনাক্ত করতে পারে না। সুতরাং অ্যান্ড্রয়েড যারা বানিয়েছে তারা বলতে পারবে এটার দুর্বলতা কী। যেহেতু অ্যান্ড্রয়েড ও অপারেটিং সিস্টেমের প্রস্তুতকারক দেশ বাংলাদেশ নয়, সুতরাং তাদের নিরাপত্তার ঘাটতি ও তথ্য ফাঁস হওয়ার যেসব বিষয় রয়েছে এগুলো বাইরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এগুলো লোকালি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

/জেডও/



  বিষয়:   নেট দুনিয়া 


Loading...
Loading...
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: