প্রযুক্তি জগতে এক ঘটনাবহুল বছর দেখল বিশ্ব। করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ প্রযুক্তি জগতে এনেছে বড় পরিবর্তন। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি জগতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছেন ইলন মাস্ক। এ মহামারি করোনার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপান্তর সর্বজনীন ব্যবহার হিসেবে দেখা দিয়েছে।
অনেকেই মনে করেছিলেন মহামারির প্রকোপ হ্রাস পেলে ধীরে ধীরে হোম অফিস, ভার্চুয়াল ক্লাস ও কনফারেন্সের বদলে আবারও আগের পৃথিবীতে ফেরত যাবে মানুষ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ ২ বছর ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর মানুষের যেই নির্ভরযোগ্যতা বেড়েছিল তা বিগত বছরগুলোতে আরও বেড়েছে। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেটাভার্স, রোবোটিক্স, এনার্জি স্টোরেজ, ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি সহ নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো। এ ছাড়াও জিনোম সিকোয়েন্সিং, ইনটেলিজেন্ট এনার্জি ডিস্ট্রিবিউশন এবং কৃষি প্রযুক্তির প্রভাব ব্যাপক।
বিগত বছরে দুটি ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি হয়েছে প্রযুক্তি খাতে, যা একটি সাপ্লাই চেইন এবং অপরটি সাইবার ঝুঁকি হ্রাস। লিখেছেন : এস এম আমানূর রহমান নেটওয়ার্ক এবং আইটি অবকাঠামো ক্লাউড এবং ‘৫জি’ এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো বিনির্মাণে একত্রিত হয়ে কাজ করছে দুটি প্রযুক্তি। সংস্থাগুলো আজ সাধারণত ৩-৬টি পাবলিক ক্লাউডে তাদের বেশিরভাগ অ্যাপ্লিকেশন হোস্ট কওে, যা এই অ্যাপগুলোকে যেকোনো জায়গা থেকে সাধারণভাবে অ্যাক্সেসযোগ্য করার অনুমতি দেয়। ৫জি বিশ্বব্যাপী ডি-ফ্যাক্টো সংযোগ পরিষেবা হয়ে উঠেছে। এটি (১০০ এমবিপিএস- ২জিবিপিএস) স্কেলে ব্রডব্যান্ড সংযোগে সক্ষম। ক্লাউড এবং ৫জি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কম খরচে প্রযুক্তিকে আরও কম খরচে ব্যবহার ও এর পরিষেবার পরিসীমা বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।
মোবাইল ‘৫জি’ : আরও গ্রহণযোগ্য এবং নিশ্চিত পরিষেবায় ‘৫জি-এর উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং কার্যকারিতার কারণে বিশ্বজুড়ে-এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বিভিন্ন ধরনের ৫জি হ্যান্ডসেট বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে ২০২১-২২ সালে ৫জি মূলধারায় পরিণত হয়।
এখন দৃষ্টি রয়েছে রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্কের (আরএএন) প্রতি। আরও বিশেষ করে বললে ওপেন-আরএএন-এ। এক্ষেত্রে অপারেটররা বর্ধিত প্রতিযোগিতার জন্য ক্লাউডের সাহায্যে খরচ কমানোর আশা করছে। ভূ-রাজনীতি এবং সরবরাহ চেইনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো ওপেন-আরএএন এবং শেয়ার্ড/মাল্টি-টেন্যান্টেড আরএএন-এর প্রতি আগ্রহকে আরও তীব্র করেছে। এই ৫জি নেটওয়ার্কের কারণেই ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার হয়ে আসা ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। কেউ কেউ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ২০২৫ সাল নাগাদ ৫০ শতাংশ ব্রডব্যান্ড কানেকশন ৫জি মোবাইলে শিফট হয়ে যাবে।
ক্লাউড : গুরুত্ব বেড়েছে দ্বিগুণ
বিগত বছরে আইটি যেকোনো ইন্ড্রাস্ট্রির ক্ষেত্রে ক্লাউডের গুরুত্ব বেড়েছে দ্বিগুণ। আইটি খাতের অন্যকোনো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরদের মূলধন ব্যয়েরও বড় একটি অংশ চলে গেছে ক্লাউডে। ধারণা করা হয়েছে আগামী ৫ বছরে এ খাতের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ক্লাউডে কারণে আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপ্রবাহ (কর্মশক্তি ব্যয়) প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। মূলত পরস্পর মিথস্ক্রিয়া বাড়ানো, গ্রহণযোগ্যভাবে তথ্য সাজিয়ে রাখা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে এই ব্যবহার বেড়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্লাউড এআইর থেকেও ভালো কাজ করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এখন যেই ক্লাউডে গেম, মেটাভার্স/ভিআর, অ্যাপস ও ওয়েবসাইট যুক্ত রয়েছে, সেখানে এআই যুক্ত হলে তা বিস্ফোরকের মতো কাজ করবে। ফলে শক্তি ও মেমোরি ব্যবহার করে তার কার্যক্ষমতা বাড়বে। এ ছাড়াও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্যও চাহিদা বাড়ছে ক্লাউডের।
সাইবার নিরাপত্তা : অপ্রত্যাশিত, অপ্রতিরোধ্য আক্রমণ থেকে রক্ষা
সাম্প্রতিককালে সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর মধ্যে এক মিল রয়েছে। সাইবার আক্রমণ আরও খারাপভাবে হচ্ছে। ডাটা নিরাপত্তা লঙ্ঘন থেকে শুরু করে র্যানসমওয়্যার (২০২১ সালে ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি), ক্রিপ্টোকারেন্সি লন্ডারিং (৩০ শতাংশ পর্যন্ত)। মহামারিকালে রিমোট ওয়ার্কপ্লেসের জন্য এ ধরনের আক্রমণ ও ঘটনা আরও বেড়ে যায়। বাস্তবতা হলো, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার সাইবার নিরাপত্তা ও এ বিষয়ক নজরদারি এবং নিয়মাবলি পালনের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা দেখাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে সাইবার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে আগের থেকে কঠিন হয়ে পড়েছে।
জিরো ট্রাস্ট : সাইবার বিশেষজ্ঞরা (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি, এনআইএসটি) এবং সরকার (যেমন ইউএস, ইউকে) মনে করে, একটি সুরক্ষিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্মাণের ভিত্তি নীতি হলো ‘জিরো ট্রাস্ট’। অর্থাৎ ওই সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ বা বাইরের কোনো ব্যক্তি, ব্যবস্থা বা নেটওয়ার্ক পরিষেবার ওপর বিশ্বাস না রাখা।
ক্লাউড মাইগ্রেশন : ক্লাউডে হোস্ট করা কাজের চাপ ২০২০ সালে ৪৬% থেকে বেড়ে ৫৯% হয় এক বছরে। এটি গত বছর আরও বেড়েছে। নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যত দ্রুত সম্ভব তাদের সব তথ্য ও পণ্য সম্পর্কিত তথ্যগুলো ক্লাউডে স্থানান্তর করতে চায়।
সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইন : আগামী ৩ বছরে ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি নতুন অ্যাপ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার প্রায় সবই ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার (ওএসএস) ব্যবহার করবে। বিশেষ করে সোলার ইউন্ড এবং লগ৪জে এটা প্রমাণ করছে যে ওএসএসের বিশ্বস্ততা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিক্রেতা এবং প্ল্যাটফর্মের একত্রীকরণ : যেহেতু সাইবার জটিলতা, আক্রমণের পরিশীলিততা এবং তা মোকাবিলায় তীব্র দক্ষতার ঘাটতি বেড়েছে, তাই সংস্থাগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম এবং বিক্রেতাদের সংখ্যা উভয়কেই একত্রিত করতে সচেষ্ট হয়েছ। ফলে অটোমেশন, বর্ধিত শনাক্তকরণ এবং প্রতিক্রিয়া (এক্সডিআর) আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টেলিকম থেকে হাইপারস্কেল টেলকোতে রূপান্তর
এটিটি যখন তার নেটওয়ার্ক ক্লাউড ব্যবসা মাইক্রোসফটের কাছে হস্তান্তর করে, তখন এটি বেশ প্রমাণিত সত্য হিসেবেই বোঝা যায়, বড় পরিসরে নিজস্ব ক্লাউডকেন্দ্রিক অবকাঠামো তৈরি এবং পরিচালনা করার দক্ষতা নেই তাদের। কেননা আধুনিক টেলকো কাঠামোর জন্য প্রয়োজন বড় বিনিয়োগ যা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়। আর এ কারণেই বিগত বছরগুলোর মতো চলতি বছরেও ক্লাউড ও টেলিকম পরিষেবার জন্য গুগল, অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) : সব কাজে ব্যবহার এবং উল্লেখযোগ্য খরচ হ্রাস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার আসলে প্রশিক্ষণ দেওয়ার থেকেও খরচ কমিয়ে দিতে সক্ষম ভবিষ্যতে। আর এ কারণেই, পূর্বে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত দিকগুলো খোঁজা হতো, তার বদলে বর্তমানে প্রতিটি সাধারণ কাজের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাকে নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গবেষণা সাইন্স ফিকশনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এআই ব্যবহার করে স্ক্রিপ্ট লেখা, ভাবানুবাদ তৈরি, নতুন আইডিয়ে তৈরি, প্রমোশন, কবিতা লেখা বা গল্প লেখার কাজও করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কৃষি, চিকিৎসা, ভারী যন্ত্র অ্যাসাম্বল বা যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয় জয়কার।
গেমিং : ক্লাউড তারপর মেটাভার্স
নতুন গেমস অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ডের ওপর মাইক্রোসফটের সাহসী ৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এই খাতে এক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডিজিটাল জীবনে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখতে চায় এমন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য গেমিং একটি মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে। ২০২১ সালে, ভাজর্চুয়াল গেম এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় ১২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে যা প্রাক-কোভিড গ্লোবাল বক্স অফিস বা স্ট্রিমিং ভিডিওকে তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। পনেরো বছর আগে, বিশ্বে প্রায় ২০০ মিলিয়ন গেমার ছিল এবং আজ প্রায় ২.৭ বিলিয়নের বেশি।
ভিডিও গেমের জগৎকে আরও এককাঠি উপরে তুলে ধরেছে মাইক্রোসফটের সিই, সত্য নাদেলা। তার মতে, ‘মেটাভার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করবে গেমস।’ টেনসেন্ট, বাইটড্যান্সার ও টিকটকসহ বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলোর নেতৃত্বে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেটাভার্স : পরবর্তী অনলাইনে সবার ঠিকানা
সহজ করে বললে, মেটাভার্স হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (ভিআর) ২০২২ সংস্করণ। এটি এমন একটি বিশ্ব, যা সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রথম নজরে একটি কল্পনাবিলাস হিসেবে বাতিল করার যোগ্য বিষয় বলে মনে হলেও এর সফলতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত রয়েছে।
ফেসবুক তার নাম পরিবর্তন করে মেটা করেছে (এর অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে) এবং ২০২১ সালে মেটাভার্স ব্যবসায়িক ইউনিট হিসেবে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। গোল্ডম্যান শ্যাস সম্প্রতি মেটাভার্সকে ‘৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছে। এটি জার্মান বা জাপানের জিডিপির সমান প্রায়। করোনা মহামারি এই মেটাভার্স জগৎকে আরও বাস্তবতা প্রদান করেছে। বেশিরভাগ অনলাইন গ্রাহক ডিজিটাল পরিষেবা নিতে বাধ্য হয়েছিল এই সময়ে। ফলে কাজ এবং খেলার জন্য একটি ভার্চুয়ালাইজড বিশ্বের সঙ্গে পরিচিতি অর্জন করতে বাধ্য হয় মানুষ। একই সময়ে, আমাদের চারপাশের প্রযুক্তি আরও ভালো, দ্রুত, সস্তা হতে চলেছে : এআর/ভিআর হেডসেটগুলো; মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং গেমিং কনসোলের সক্ষমতা; চিপসেট; ৫জি; ফাইবার টু দ্য হোম প্রায় সর্বব্যাপী উন্নতি হয়েছে মেটাভার্সকে সামনে রেখে। মেটাভার্সকে ইন্টারনেটের পরবর্তী ফর্মের (ওয়েব ৩.০) একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এটি উপেক্ষা বা বাতিল বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গত ১ বছরে এ খাতে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজানসহ বড় বড় টেক জায়েন্ট বিনিয়োগ করছে। বলা হচ্ছে, যেই প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিখুঁদ সমাধান নিয়ে আসবে, তারাই হবে পরবর্তী বছরগুলোতে প্রযুক্তি খাতের রাজা।
ওয়েব ৩.০ : বিশ্বাস এবং নিয়ন্ত্রণ
‘ওয়েব ৩’ ইন্টারনেটের একটি বিকেন্দ্রীকৃত সংস্করণ যেখানে প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের দ্বারা নির্মিত এবং তাদের মালিকানাধীন হবে। ‘ওয়েব ২’ (বর্তমান ওয়েব) যা কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেমন গুগল, অ্যাপল এবং ফেসবুক দ্বারা প্রভাবিত, ডবন৩ ইন্টারনেট সম্প্রদায়ের কাছে তারা শক্তি হস্তান্তর করতে ব্লকচেইন, ক্রিপ্টো এবং এনএফটিএস ব্যবহার করবে। ‘ওয়েব ৩’ যে কারণে এত বেশি আগ্রহ ও আকর্ষণ তৈরি করছে তার দুটি মূল উপাদান হলো- ‘সিস্টেমের’ ওপর উচ্চতর আস্থা (যেমন অর্থপ্রদান, মূল্যায়ন, সার্টিফিকেশন); এবং বিকেন্দ্রীকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের হাতে নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষতা ও প্রতিভা : আরও সংকট তৈরি এবং অটোমেশনের ব্যবহারের সমালোচনা
মহামারিকালে নতুন দক্ষতা ও প্রতিভা তৈরি হওয়ার যেই ঘাটতি তৈরি হয়, তা এ বছর সম্পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরুর পর আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে দক্ষ ও প্রতিভাবান কর্মীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে মানসিক ‘বার্নআউট’-এর পরিমাণ ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে।
দুর্ভাগ্যবশত, দক্ষতার ঘাটতির কোনো সমস্যাই দ্রুত পরিবর্তন হবে বলে আশা করা যায় না। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিভাকে আকৃষ্ট করতে মজুরি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।
এর পাশাপাশি অটোমেশন বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে। শ্রমিক হ্রাস ও অটোমেশন ব্যবহার বৃদ্ধি বৈশ্বিকভাবে কর্মসংস্থানে এক ধরনের ফাঁকা চাপ তৈরি করছে। ফলে সার্বিকভাবে এ খাতে নতুন প্রতিভা বিকাশ এবং সেই প্রতিভার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলো নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, এভাবে চললে ভবিষ্যতে আইসিটি খাতে যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষ জনগোষ্ঠী খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।
কৃষিতে প্রযুক্তি শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে প্রতি বছরই কৃষিজমি কমছে।
কৃষিজমি রক্ষায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে আর শিল্প বা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। তার পরও কৃষিজমি ব্যবহার হচ্ছে অকৃষি কাজে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে। ফলে স্বল্প জমিতে আবাদপূর্বক বিপুল মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো ক্রমে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হতে পারে একরপ্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিগত এক বছরে বেড়েছে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার। চাষাবাদ বা গবাদিপশু পালনের আগ থেকে শুরু করে সর্বশেষ প্রক্রিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার প্রযুক্তি। অর্থাৎ আপনার ফল গাছ রোপণের পূর্বে তার মাটির গুণাগুণ, সেই অনুসারে যথাযথ পুষ্টিসমেত চারা রোপণ, ফসল উৎপাদনে যথাযথ পরিমাণ পুষ্টি/সারের ব্যবহার, রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার, ফসল/ফল উৎপাদন, মাঠ থেকে তা সংগ্রহ এবং সর্বশেষ প্যাকেটজাত করা- এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এআই ও সেমি অটোমেশন পদ্ধতিতে করা সম্ভব বর্তমানে। আর তাও নিখুঁদ এবং প্রায় শতভাগ নির্ভুল প্রক্রিয়ায়।