ম্যাগনেট পিলারের নামে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপরাধ

দুষ্প্রাপ্য কয়েন ও ম্যাগনেট পিলার বিক্রির নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি আমেরিকান এন্টিক দ্রব্যের ব্যবসায়ী, মারোয়ারী

2023-12-04T21:43:45+00:00
2023-12-04T22:03:31+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
অপরাধ
সাবেক সাংসদের কোটি টাকা খোয়া
ম্যাগনেট পিলারের নামে প্রতারণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:৪৩ পিএম  আপডেট: ০৪.১২.২০২৩ ১০:০৩ পিএম
ম্যাগনেট পিলারের নামে প্রতারণা
দুষ্প্রাপ্য কয়েন ও ম্যাগনেট পিলার বিক্রির নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি আমেরিকান এন্টিক দ্রব্যের ব্যবসায়ী, মারোয়ারী সাজিয়ে দেশের উঠতি বড়লোক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, শিল্পপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি এক সাবেক সংসদ সদস্যকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান মজনু (৪৫), মো. আক্তারুজ্জামান ওরুফে তাহেরুল ইসলাম (৫৮), মো. জসিম (৩৫) ও ইব্রাহিম ব্যাপারি (৩৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি কথিত ব্রিটিশ সীমানা পিলার (ম্যাগনেট পিলার), ৪টি কথিত প্রাচীন কয়েন, নগদ ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন, ১টি চুক্তিপত্র, চেক, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

এবিষয়ে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টুরোডে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, চক্রটি ঢাকার ভেতরে ঢাকার বাইরে শিল্পপতিদেরকে টার্গেট করে অথবা ভালো চাকরি করে সেখান থেকে রিটায়ার্ড করার পরে এসব মানুষদের টার্গেট করে ব্রিটিশ সীমানা পিলার, কয়েন দেখিয়ে বিশাল লাভের প্রলোভন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত।

তিনি আরও বলেন, প্রতারণা করার সময় চক্রটির চার-পাঁচটি গ্রুপ থাকে। তাদের একটি গ্রুপ আমেরিকাতে বড় ব্যবসী, চাকরিজীবী মারোয়ারী বলে পরিচয় দেয়। আরেকটি গ্রুপ কৃষক সেজে দেখায়-‘আমি আমার গ্রামের পুকুরটা খনন করতে গিয়ে এই এন্টিক জিনিসটা পেয়েছি’। ভুক্তভোগী ব্যক্তির সাথে রাজধানীর সবচেয়ে দামি হোটেলে বসিয়ে মিটিং করত। মার্কিন ব্যবসায়ী ও মারোয়ারী সেজে ভালো ড্রেস পড়ে, দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে আসত। সঙ্গে দুইজন বডি কার্ড থাকতো। গলায় পরতো ভাড়া করা স্বর্ণের হার, হাতে স্বর্ণ। এভাবেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত।

হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেফতার তাহেরুল ইসলাম পরিচয় দেয়- সে আমেরিকার হেরিটেজ অকশন নামে এক কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর। তার দামি গাড়ি, স্মার্ট বেশ দেখে ভুক্তভোগীরা তাকে বিশ্বাস করেন। তাহেরুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে বলত এন্টিক ২৫০ কোটা টাকায় কিনে আমেরিকা সেটা বিক্রি করবেন ৫০০ কোটি টাকা। দামাদামি করার পর ভুক্তভোগী রাজি হয়। তখন নগদ ৩৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য তাদেরকে সাড়ে তিন কোটি টাকা নগদ দেয়। বাকি ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চেকে নেয়। এরপর কথিত ম্যাগনেট পিলার ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়। সেটি নিয়ে বের হওয়ার সময়ে চক্রের আরেকটি দল পিলারটি ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন। তিনি ডিবি রমনা বিভাগের অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে তদন্ত করে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, মারোয়ারী দলের সবাইকে যখন ধরলাম দেখা গেল একজন রিকশা চালায়, তাহেরুলের দুইজন স্ত্রী আছে, পাশাপাশি চার নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত, এই টাকা তাদের পেছনে খরচ করেছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ সাড়ে তিন কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এই টাকা দিয়ে জমি কেনে, এফডিআর করে।

প্রতারকরা জানায়, টাকাগুলো নেওয়ার পর তারা দেড় দুই মাস অপেক্ষা করে। এসময়ের মধ্যে পুলিশ তাদের বিষয় খোঁজ খবর না নিলে এইসব টাকা খরচ করে। তাদের কাছ থেকে মাত্র ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: