একটা সময় পশ্চিমা সংস্কৃতি বলে আমাদের পরিবার ও সমাজে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনকে নিরুৎসাহিত করা হলেও সেই বাস্তবতা এখন আর নেই। বিশ্বের বড় শহরগুলোতে আতশবাজির আলোয় এই রাতের আমেজ ফুটে ওঠে। তবে আতশবাজি উৎসব নিয়ে পরিবেশবিদরা সবসময় শঙ্কিত। ২০২১ সালে ইতালির রোমে আতশবাজির শব্দে রাস্তায় শত শত পাখি মরে পড়ে ছিল। এবারও আক্রান্ত হয়েছে পাখিরা। শুধু রাজধানীতেই শতাধিক পাখি মারা গেছে।
মঙ্গলবার সময়ের আলো থেকে জানা যায়, থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে সাউন্ড বক্সে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে গাজীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে এক কিশোর। বাসার ছাদে ফানুস ওড়াতে গিয়ে রাজধানীতে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। সারা দেশে তিনটি জায়গায় আগুনের তথ্য এসেছে ফায়ার সার্ভিসে।
সাত বছর ধরে খ্রিস্টীয় নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে আসছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণা দল। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, আবাসিক ও শিল্প এলাকা ভেদে ঢাকার জন্য শব্দের আদর্শ মান ৫৫ থেকে ৭৫ ডেসিবেল। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা ৭৬ থেকে ৮০ দশমিক ডেসিবেল। রাজধানীতে দিনে গড়ে ১৪ ঘণ্টা সময় ধরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শব্দদূষণ হয়। ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ঘণ্টায় শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবলের মধ্যে ছিল। বায়ুমান সূচকেও ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন বরাবরই নগরকেন্দ্রিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগর কর্তৃপক্ষ নববর্ষ বরণের নানা আয়োজন করে। আতশবাজি ফোটানো হয়, এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও এলাকাও থাকে। ভারতে পরিবেশবান্ধব আতশবাজির চল বাড়ছে। কতক্ষণ আতশবাজি ফোটানো যাবে, সেই সময়ও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ১২-দফা নির্দেশনা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নির্দেশনায় বলা হয়, নগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায় এবং প্রকাশ্য স্থানে কোনো ধরনের সভা, জমায়েত বা উৎসব করা যাবে না। নগরের উৎসব সংকুচিত হতে হতে এখন একচিলতে ছাদের মধ্যে এসে ঠেকেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও এই রাতে ঢাকার আকাশ আলোকিত হয়ে যায় আতশবাজি আর ফানুসে।
মানুষ উৎসব উদযাপন করবে। তবে এ শহরে ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, রোগী, পশুপাখিকেও স্বস্তি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরো শহরটাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না এনে শহরের কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, যেখানে উৎসব করার জন্য মানুষ জড়ো হবে। আবাসিক এলাকাগুলোতে উদযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এ নগরী আরও বিপর্যস্ত হতে পারে। আমরা প্রত্যাশা করি, একটি শিশু বা একটি পাখিও শঙ্কিত হবে না-এমনই হোক আমাদের উদযাপন।
সময়ের আলো/আরএস/