দ্রুত নামছে পানির স্তর, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে

সম্পাদকীয়

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ পানি এখন ভাবনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখল দূষণে অনেক

2024-03-23T00:32:41+00:00
2024-03-23T00:35:17+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সম্পাদকীয়
দ্রুত নামছে পানির স্তর, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪, ১২:৩২ এএম  আপডেট: ২৩.০৩.২০২৪ ১২:৩৫ এএম
দ্রুত নামছে পানির স্তর, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ পানি এখন ভাবনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখল দূষণে অনেক নদী এখন মৃতপ্রায়। এ ছাড়া শহরগুলোতে ওয়াসার পানি সরবরাহ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। গ্রীষ্মকাল এলেই দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। 

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। শুক্রবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সময়ের আলো। দূষণ ও দখলের কারণে রাজধানীর চারপাশের নদী ও জলাশয়ের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায়, ঢাকা নগরীর ঘরে ঘরে এবং শিল্পকারখানায় যে পানি ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় ৭০ শতাংশই উত্তোলন করতে হয় মাটির নিচ থেকে। প্রতিদিনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে পানি আইন লঙ্ঘন করে প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পানির স্তর দ্রুততার সঙ্গে নেমে যাচ্ছে। পানি বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, যে হারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে, সে হারে পানির স্তর পূরণ হচ্ছে না। তাই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন সহনীয় পর্যায়ে আনতে না পারলে কয়েক দশকের মধ্যেই সুপেয় পানির সংকটসহ বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

গ্রীষ্মকালে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় পানি সংকট বেড়ে যায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের তথ্য মতে, রাজধানীতে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা না হলে ৫ বছর পরে প্রতি বছর ১০ মিটার করে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। অথচ সত্তরের দশকে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানিতল ভূপৃষ্ঠ  থেকে এক মিটারেরও কম গভীরতায় ছিল, বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ৭৫ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে।  

একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহার, অন্যদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে পানির স্তর দিন দিন ভয়াবহ হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীনালা, খালবিল, পুকুরে পানি থাকে না। ফলে পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। একই কারণে বিল্ডিং বা স্থাপনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। তা থেকে পরিত্রাণে সুপেয় পানি হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নদীনালা, খালবিলের পানি সংরক্ষণ করে তা সেচসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানি সংকট দূর করতে ভূউপরিস্থ পানির উৎস সৃষ্টি করতে হবে। বৃষ্টির পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দখল-দূষণমুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানির মানোন্নয়ন ও শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গেলে পানি সংকট অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। ওয়াসাকে এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।


সময়ের আলো/আরএস/



Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: