পবিত্র ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ সামনে রেখে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। আজ ও আগামীকালের মধ্যে বেশিরভাগ নেতা ঢাকা ছাড়বেন। কেউ কেউ ঢাকায় ঈদের নামাজ পড়ে এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। নির্যাতিত ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের বাসায়ও যাবেন নেতারা। সেখানে তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন। নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ঈদের দুদিন পর নববর্ষ চলে আসায় অনেকে ঈদ আনন্দ শেষে বর্ষবরণ উৎসবও পালন করবেন গ্রামের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে।
ঈদ পালন করতে গ্রামের বাড়ি নরসিংদী যাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও চট্টগ্রাম যাবেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা বলেন, এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করব। অনেক দিন তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে না। সবশেষ আন্দোলনে জেল জুলুম হামলা মামলার কারণে দেখাদেখিও বন্ধ ছিল। ঈদে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে সেগুলোতে অংশ নেব।
ঢাকায় ঈদ করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান। ঢাকার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ঈদ উদযাপন করবেন অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাতে তিনি স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। কারাগারে যাওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন সবশেষ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
ঈদের সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বিএনপির মানবাধিকার কমিটি ও মিডিয়া সেলের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল সময়ের আলোকে বলেন, ঈদ করতে মঙ্গলবার গ্রামের বাড়ি নাটোর যাব। যৌথ পরিবারের মোটামুটি সবাই এবার এক সঙ্গে বাড়িতে ঈদ করব। পারিবারিক ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি নাটোরের দুই উপজেলা এবং দুই পৌরসভায় বেশ কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে। এরই মধ্যে কারামুক্তসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, ক্ষতিগ্রস্ত-অসুস্থ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সহযোগিতা করা ছাড়াও বেশ কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচি রয়েছে।
ঈদ ব্যস্ততা নিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, সবশেষ আন্দোলনের ধকল কাটাতে গিয়ে অনেক কাজ জমে গেছে। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক অবস্থা নাজুক। এখনও আমার শ্যামপুর ও কদমতলী থানার বেশ কিছু নেতাকর্মী কারাবন্দি। গত বছরের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে সরকারের সীমাহীন দমনপীড়নের ফলে নির্যাতিত ও অবহেলিত কর্মীদের আর্তনাদ বেড়েছে। সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে হবে। ঈদে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করব এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছি।
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক সময়ের আলোকে বলেন, ঈদে দোহার-নবাবগঞ্জ সাভার কেরানীগঞ্জ এলাকায় থাকব। সেখানকার বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করব। ঈদ উৎসব হলেও রাজনৈতিক আবহ তো থাকবে। নেতাকর্মীরা তাদের সুখ-দুঃখের কথা বলবেন। আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মূল্যায়ন উঠে আসবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সময়ের আলোকে জানান, ইতিমধ্যে তিনি নিজ এলাকা জামালপুরে আছেন। সেখানে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন। ঈদেও এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন সময়ের আলোকে জানান, আজ সোমবার তিনি গ্রামের বাড়ি বরিশাল চলে যাবেন। সেখানে ইফতার মাহফিলের কর্মসূচি রয়েছে। ঈদে স্বাভাবিকভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলোতে অংশগ্রহণ করতে হবে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সময়ের আলোকে জানান, ঢাকায় ঈদ করে তিনি নিজের গ্রাম নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যাবেন। সেখানে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন রয়েছে। জেলায় বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান শেষ করে ঢাকায় ফিরবেন।
সময়ের আলো/জেডআই