বাংলাদেশে সন্তানের অভিভাবকত্বের ইতিহাসে আজমেরী হক বাঁধন একটি অনন্য নাম। প্রথা, সামাজিক ও ধর্মীয় বাধা পেরিয়ে বাঁধন বাংলাদেশে ডিভোর্সি মায়েদের দীর্ঘশ্বাসে এনেছেন সুবাতাস। বাংলাদেশে বাঁধনই প্রথম নারী যিনি আদালতের রায়ে তার সন্তান মিশেল আমানি সায়রার পূর্ণ অভিভাবকত্ব পেয়েছেন।
বাংলাদেশের আতঙ্কিত ডিভোর্সি মায়ের কাছে বাঁধন এক তীব্র মানসিক শক্তির নাম। ধর্মীয় ও আইনিভাবে বাংলাদেশে ডিভোর্সের পর মাকে কাস্টডি বা জিম্মায় দেওয়া হয়। কিন্তু সন্তানের অভিভাবকত্ব থাকে বাবার। যদি বাবা না পান, সে ক্ষেত্রে দাদা-চাচা, এমনকি নানা-মামারা অভিভাবকত্ব পান। আত্মীয়ের তালিকায় অনেক পরে আসে মায়ের নাম। দীর্ঘদিন সন্তানের কাস্টডি না পাওয়ার ভয়ে নারীরা অসুখী দাম্পত্য চালিয়ে যেতে বাধ্য হতেন। বাঁধন এখানেই গড়েছেন ইতিহাস।
‘সন্তানের অভিভাবকত্বের জন্য যখন লড়াই করছিলাম তখনও কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না যে আমি কাজটা করে ফেলেছি। আমি বুঝিনি কাজটার কলেবর ও পরিসর এত বড় হবে। তখন একমাত্র লক্ষ্য ছিল আমার মেয়েকে নিজের কাছে রাখা। আদালত চত্বরে বাবা আমার সঙ্গে যেতেন। কিন্তু এ সামগ্রিক লড়াইটা আমার একার। কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে লড়াইটা জিতে যাব আমি।’
‘২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। এদিনেই আমার সন্তানের অভিভাবকত্ব পাই আমি।’ এ ঘটনার পর জল অনেক দূর গড়িয়েছে। নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সায়রাকে নিয়ে বাঁধনের ব্যক্তিগত যুদ্ধটা যে ইতিহাস গড়বে তা স্বপ্নেও ভাবেননি এই অভিনেত্রী। তিনি কেবল চেয়েছেন বাংলাদেশের সব মায়ের অধিকার থাকুক তার সন্তানের ওপর।
আজমেরী হক বাঁধন, হাইকোর্ট প্রদত্ত প্রথম পূর্ণ নারী অভিভাবক
সময়ের আলো/আরএস/