এ বছর চট্টগ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হয়েছে। ২০ বছর ধরে এই নগরীতে জলাবদ্ধতার তীব্রতা বাড়ছেই। প্রতি বছর ১০-১২ বার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছর বান্দরবানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা হয়েছে। গত বছর বৃষ্টিতে ১৩ বার চট্টগ্রাম নগরী ডুবেছে। বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক দেখা দেয়। এবারও বৃষ্টির মৌসুমের শুরু থেকেই নগরবাসী উদ্বিগ্ন। শুধু চট্টগ্রাম নয়-সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকায় সব নগরীতেই জলাবদ্ধতা বাড়ছে। দিন দিন দেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলের দাপট বাড়ছে এবং বেশি বেশি এলাকা নিজের করায়ত্ত করছে।
শুক্রবার সময়ের আলো থেকে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর এক-তৃতীয়াংশ এলাকা। কক্সবাজার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে টানা ৪ দিন ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিতে রয়েছে ৪ ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। রাতে বৃষ্টি বাড়লে হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বাহার ছড়া ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা বাড়িগুলোর অধিকাংশ ধসে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। টেকনাফ উপজেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় টেকনাফে ২৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কর্ম হারিয়েছেন দৈনন্দিন আয়-রোজগারের মানুষগুলো।
কর্মজীবীদের অফিস-আদালতে যেতেও অনেক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ স্থানীয়দের। অপরদিকে পাহাড়ি উজান থেকে নেমে আসা পানি ও নাফ নদের পানি বৃদ্ধির ফলে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় আছেন সীমান্তে বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দা। নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, আগ্রাবাদ শুলকবহরসহ একাধিক এলাকার সড়কও তলিয়ে গেছে পানিতে। অসহনীয় ভোগান্তিতে রয়েছে নগরবাসী।
জলবায়ু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটার প্রভাবের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এটাও বিভিন্ন নগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এসব নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু প্রকৌশলগত সমাধান খোঁজা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করেই বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। নগরজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে অবকাঠামো। আমরা মনে করি, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিবেশগত সমাধান খুঁজতে হবে। ভূমি ও জলবায়ু সংবেদনশীল পরিকল্পনা প্রণয়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উপায় বের করতে হবে।
ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা প্রয়োজন। নগরীতে পানি ধারণের জায়গা (জলাধার) সংরক্ষণ করতে হবে, বৃষ্টির পানি যেন বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হতে পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। প্রকৃতিকে শ্রদ্ধা করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সময়ের আলো/আরএস/