ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে দ্রুত গণহত্যার বিচার শুরু করতে হবে। হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। গণহত্যার অভিযোগে বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর কয়েক জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
ঢাকার বাইরে জেলায় জেলায় একই কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। সকাল থেকে নয়াপল্টন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বায়তুল মোকাররম এলাকা, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। সবচেয়ে বড় জমায়েত হয় নয়াপল্টনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে। সেখানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপি দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু। তিনি বলেন, আমাদের দাবি একটাই। তা হচ্ছে পতিত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের গ্রেফতার করে বিচার করা। এরা বাংলাদেশে নৃশংস গণহত্যা ঘটিয়েছে।
গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে পুড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায় যুবদলের নেতা-কর্মীরা। সেখানে অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন, খুনি শেখ হাসিনার বিচার চাই, বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন নেতাকর্মিরা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বে সংগঠনের কয়েক শো নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকা ছিল। সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বলছেন, গণ আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। খুনি, স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্টদের জায়গা আর এই দেশে হবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনাল দ্রুত গণহত্যার বিচার শুরু করতে হবে। হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতা, কবিতা আবৃতি ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করা হয়। এ সময় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।

ধানমন্ডি এলাকায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনর নেতৃত্বে শান্তি পদযাত্রা করে নেতাকর্মীরা। পদযাত্রাটি বিকাল ৪ টায় সাইন্সল্যাব থেকে শুরু হয়ে কলাবাগান, পান্থপথ মোড়, ধানমন্ডি ৩২ ও ধানমন্ডি ২৭ হয়ে শংকর বাসস্ট্যান্ডে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে শেষ হয়।
এসময় ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর ধরে লাগাতার সন্ত্রাস করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই চোর বাটপারের দল আ'লীগকে অচিরেই নিষিদ্ধ করতে হবে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ছুড়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন দিতে হবে।
মিরপুরে শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবদল। সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো সরকারপ্রধান নির্লজ্জের মতো নেতাকর্মীদের রেখে পালিয়ে যায়নি। পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে নিকৃষ্টতম ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন।
রাজধানীর পুরানা পল্টনের আলরাজি কমপ্লেক্সের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে গণ অধিকার পরিষদ। পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্বিচার হত্যা চালিয়ে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চেয়েছিল। তাই শেখ হাসিনাসহ হত্যায় জড়িতদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এ দেশে নিষিদ্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতের উদ্দেশে নুরুল হক বলেন, বন্দী বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ ‘গণহত্যায়’ জড়িত থাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসরদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ যাতে দেশে আর রাজনীতি করতে না পারে, সে জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া মানে ভিন্নমত নিষিদ্ধ হওয়া নয় উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, গত নির্বাচনে দেশের ৬২টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না গেলেও আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ নির্বাচনে গিয়েছেন। জাতীয় পার্টির মতো সুবিধাবাদী দলকেও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
এছাড়া মালিবাগ, মৌচাক, শাহজাহানপুর, কাপ্তান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিএনপি মহানগর, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা মিছিল করে।
সময়ের আলো/এম