আলুসহ তিন পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাস, ভোক্তা পর্যায়েও দাম সমন্বয় জরুরি

সম্পাদকীয়

বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্য উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। অন্যদিকে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের

2024-09-07T00:29:57+00:00
2024-09-07T08:02:39+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সম্পাদকীয়
আলুসহ তিন পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাস, ভোক্তা পর্যায়েও দাম সমন্বয় জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:২৯ এএম  আপডেট: ০৭.০৯.২০২৪ ৮:০২ এএম
আলুসহ তিন পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাস, ভোক্তা পর্যায়েও দাম সমন্বয় জরুরি
বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্য উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। অন্যদিকে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাহিদায় কাটছাঁট করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বর্তমানে শুধু নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তই নয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নাকাল মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরাও।

জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে দেশে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। দেশের পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কীটনাশক, আলু ও পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানোর ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 

শুক্রবার সময়ের আলোতে এসেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আলু ও পেঁয়াজের দাম কমাতে আমদানি শুল্ক হ্রাস করেছে সরকার। সেই সঙ্গে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কীটনাশক আমদানিতেও শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে শুল্ক হ্রাসের কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আলু আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলু আমদানিতে যে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে কীটনাশকের ওপর প্রযোজ্য ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং তার সঙ্গে সব নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এই শুল্ক ছাড় সাময়িক সময়ের জন্য। 

দেশের বাজারের চাহিদা পূরণে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা দরকার। বিশেষ করে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব শুল্ক কমিয়ে আনতে হবে। তাতে আমদানি করা পণ্য কিছুটা হলেও কম মূল্যে পাবেন ভোক্তা সাধারণ। তবে এর আগে আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তারা আগে আমদানি করা পণ্যের দামও সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু শুল্ক কমালে তারা দাম কমায় না।

আমদানির সময় ও ডলারের অজুহাত দেয়। আমদানি শুল্ক কমলেও বাজারে এর কতটা প্রভাব পড়বে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অভিজ্ঞ মহল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর সুফল পেতে হলে দ্রুত ভোক্তা পর্যায়েও দাম সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে নির্ধারণ করে দিতে হবে চালসহ ভোগ্যপণ্যের দাম। আমরা প্রত্যাশা করি, শুল্ক কমানোর এ সিদ্ধান্তের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: