জুলাই গণহত্যায় শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই একটি স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন করার উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং ২০২৪-এ বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে সাধারণ সম্পাদক করে সংস্থাটির ৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৪ জন সাধারণ সদস্যসহ মোট ২১ সদস্যের এই ফাউন্ডেশন হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারকে দেখাশোনার যে দায়িত্ব সরকার নিয়েছে, তা এই ফাউন্ডেশন থেকে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করবে এই ফাউন্ডেশন। কার্যনির্বাহী কমিটি ফাউন্ডেশনের জন্য একটি কার্যালয় এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সব ভিডিও, ছবি, কথন ইতিহাস ও অন্যান্য নথি এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও সংরক্ষণাগারভুক্ত করবে বলে জানা গেছে। এটি একটি স্বাধীন ফাউন্ডেশন। এখানে যে কেউ অনুদান দিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার সময়ের আলো থেকে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহিদ পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য গঠিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এ ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদদের প্রত্যেক পরিবার প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা এবং আহত প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া আলাদাভাবে ক্ষতি অনুযায়ী জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি স্মারক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আহতদের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং শহিদদের পরিবারের জন্য চেক হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, আন্দোলন শুরুর পর গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৬৩১ জন নিহত এবং ১৯ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য সংকলিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে। সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে করা এ তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
আমরা মনে করি, শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ফাউন্ডেশনে সামান্য পরিমাণ অর্থ অনুদানেরও দলিল করতে হবে এবং দানকারীদের তালিকাও সংরক্ষণ করতে হবে, যদি সম্ভব হয় তাদের নাম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, সমাজের সকল স্তরের মানুষ, সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনুদান কিংবা অন্য যে কোনোভাবে যুক্ত হয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে সফল ও কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করবে।
সময়ের আলো/আরএস/