দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন। এর মধ্যে পেঁয়াজ ও আলু অন্যতম। প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম যেন লাফিয়ে বাড়ছে। আলু দেশে উৎপাদিত পণ্য হলেও এর দাম অসহনীয় পর্যায়ে। দেশে এখন সবজির ভরা মৌসুম। তারপরও সবজি এখনও ক্রেতার নাগালে আসেনি। পেঁয়াজের কেজি ঠেকেছে ১৭০ টাকায়। আলুর দামও বেড়েই চলেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে প্রচুর ইলিশের সমাগম হলেও দাম সেই আকাশচুম্বীই। চাল-ডালের দামও ফের বেড়েছে। বাজারে সবকিছুর দাম অত্যধিক চড়া থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছে বিপাকে। সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ক্রেতারা অভিযোগ করছে, ভরা মৌসুমে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা থাকলেও কোনো সবজি ১০০ টাকার নিচে কেনা যায় না। অনেক নিত্যপণ্য প্রায় সেঞ্চুরি হাঁকানোর অপেক্ষায়। সাধারণ ক্রেতাদের নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ভোগান্তি থাকলেও বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো নয়।
আলুর দাম নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর মৌসুম এখন শেষের দিকে। প্রতি বছর এ সময় দাম বাড়ে। তবে এ বছর শুরু থেকে আলু চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। এখন বেড়ে আরও অস্থিতিশীল হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা কমলেও ইলিশের দাম রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সব ধরনের মুরগির দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্ষন্ত বেড়েছে। গরু ৭৫০ টাকা ও খাসি ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র বলছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। পেঁয়াজ আমদানি সেই চাহিদা মেটানো হয়। পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমদানি শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এরপরও পেঁয়াজের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাংলাদেশ অধিক মূল্যে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের মূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে দেশে প্রতি বছর আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টন। দেশে প্রতি বছর আলুর চাহিদার অতিরিক্ত আলু উৎপাদন করা হয়। ফলে দেশ থেকে আলু রফতানি হয়ে থাকে। গত দুই মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আলুর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদার চেয়ে জোগান কম হওয়ায় দেশে আলুর দাম বেড়েই চলেছে। প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যসহ প্রতিটি খাতে। এর মধ্যেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। সিন্ডিকেট করে তারা প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। বারবার সিন্ডিকেটের কথা বলা হলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে কষ্ট পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হয়।
‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে এই অসাধু চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। পণ্যমূল্যের রাশ টানতে বাজার নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সিন্ডিকেট ভাঙা কাদের কাজ তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে । এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টরা কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন-এটাই প্রত্যাশা।
সময়ের আলো/আরএস/