দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। যাদের একমাত্র ভরসা বেসরকারি নানা সংস্থা। এনজিও পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ ও বিভিন্ন বেসরকারি আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ঋণ পেয়ে থাকেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এনজিওগুলো সেই টাকা নিম্নবিত্তদের ঋণ দিয়ে থাকে। বিগত সরকারের আমলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে এনজিওর টাকা নিয়ে গেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান। আবার টাকা বিতরণ হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। গৃহ বানানোর ঋণ গেছে বুটিক শিল্পে। এনজিওগুলোকে টাকার ভাগ দিতে হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারকেও। আবার তারা ঋণ দিয়ে সেই টাকা তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। সব মিলিয়ে তারা সরকারকে টাকা শোধ করতে পারছে না। পরিণত হচ্ছে কিস্তি খেলাপিতে। শুক্রবার সময়ের আলো থকে এসব তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ন তহবিল ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সূত্র অনুযায়ী, দেশের প্রায় দেড়শ এনজিও সরকারের কাছ থেকে মোট ৪ হাজার ১৩৯ কোটি ৯৪ লাখ ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ এনজিও তিন বা তিনের বেশি কিস্তি খেলাপির বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে; যার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো জাতিকে।
এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জায়গায় সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে সহায়সম্বল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। আবার অনেকেই ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এনজিও ঋণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে-এনজিও থেকে যে ঋণটা একজন নিচ্ছে, অন্য এনজিও সেটা জানে না। কারণ তাদের ঋণের কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার নেই। একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হলে, সেটা সার্ভারে পরীক্ষা করলেই পাওয়া যাবে।
ব্যাংকের ক্ষেত্রে একজনের নামে একটি ঋণ থাকলে অন্য ব্যাংক সাধারণত আর দেয় না। কিন্তু গ্রামের একজন মানুষকে ৮-১০টি এনজিও ঋণ দিচ্ছে। আমরা মনে করি, ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রেও একটা কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তিকে একাধিক এনজিও ঋণ দিতে পারবে না। এগুলো নিশ্চিত করতে না পারলে সংকট আরও বাড়বে।
গৃহায়নের ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যয় করে গ্রহীতারা এখন কিস্তি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। তবু তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের টাকা কিস্তিতে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে গ্রাহকদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এই ঋণের কিস্তি আদায়ে সহযোগিতা জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করি, ঋণখেলাপি এনজিওগুলো এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি কার্যকর সমাধান প্রস্তাব করবে।