জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের রূপরেখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) গঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত প্রথম আর্থ সামিট ও ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আর্থ সামিটের (জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলন) সিদ্ধান্তের ফলে। তাই বলা যায়, বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের মূল কাজ বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করার ব্যাপারে ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। প্রতিটি জলবায়ু সম্মেলনেই কিছু না কিছু নতুন বিষয় সামনে আসে। এ যাবত প্রায় দুই ডজন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে। তবে মোটাদাগে বলা যায়, প্রথম দশকে সমঝোতার মূল বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাকে থামিয়ে বা কমিয়ে দেওয়া বা প্রশমন (মিটিগেশন)। কিন্তু দ্বিতীয় দশকে এসে আইপিসিসি চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দিল যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু মিটিগেশন যথেষ্ট নয়। এর পর থেকে আলোচনায় মিটিগেশনের পাশাপাশি গুরুত্ব পেল জলবায়ু অভিযোজন (অ্যাডাপটেশন)।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে উন্নত বা সম্পদশালী দেশগুলো এ ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। আবার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেকেই অভিযোজন করতে পারে না সম্পদের অপর্যাপ্ততার কারণে। কখনোবা অভিযোজন করার পরও ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার দেশগুলোর অভিযোজনের জন্য এর আগে অ্যাডাপটেশন ফান্ড, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ইত্যাদি নামে তহবিল দিতে চেয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত সম্পদশালী দেশগুলোর জোট। ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুত অর্থের খুব সামান্যই দিয়েছে বিভিন্ন জলবায়ু তহবিলে। ফলে প্রান্তিক জাতি/দেশসমূহ ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করার জন্য লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড নামক আলাদা তহবিল চেয়ে আসছে উন্নত দেশগুলোর কাছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ থেকে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতিকে লস অ্যান্ড ড্যামেজ বলা হয়। যেমন ঘূর্ণিঝড়, খরা, তাপপ্রবাহ, মরুকরণ, লবণাক্ততা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদির ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি। সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও অর্থনীতিবহির্ভূত ক্ষয়ক্ষতি, যেমন পরিবেশ বা প্রতিবেশের ক্ষতি, স্বাস্থ্য বা জীবনহানি, বাস্তুচ্যুতির কারণে সামাজিক ও মানসিক ক্ষতিÑ এসবই লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের মধ্যে পড়ে।
বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফাইন্যান্সিং। ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ প্রকাশিত আইপিসিসির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা ক্রমেই বেড়েছে। ফলে ধীরগতির দুর্যোগ, যেমন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, মরুকরণ ইত্যাদিও বাড়বে। কৃষি, বনায়ন, মৎস্য, পর্যটনসহ বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সম্পদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিক ও অর্থনীতিবহির্ভূত ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুচ্যুতি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতিকে গুরুত্বসহকারে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো থেকে সাড়ে তিন কোটি পর্যন্ত মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটতে পারে।
লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করলে জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতিকে মোকাবিলা করা সহজ হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কৃষকদের জন্য বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতি মোকাবিলায় শস্যবিমা, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ সহায়তা ইত্যাদি সবই সম্ভব হবে লস অ্যান্ড ড্যামেজের ফান্ড থেকে। এমনকি এই লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসন এবং নতুন জীবিকা অনুসন্ধানে সহায়তা করা যাবে।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করেই ২০০৭ সালে ১৩ম জলবায়ু সম্মেলনে বালি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে লস অ্যান্ড ড্যামেজ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আসে। পরে ২০১০ সালে ১৬তম জলবায়ু আলোচনায় লস অ্যান্ড ড্যামেজের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে দোহায় ১৮তম জলবায়ু আলোচনায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় লস অ্যান্ড ড্যামেজের অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য আলোচনা হয়। তবে সত্যিকারের উদ্যোগটি ঘটে ২০১৩ সালের জলবায়ু আলোচনায়। সেখানে সব পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা কমিয়ে আনা এবং বন্ধ করার জন্য ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম (ডব্লিউআইএম) ফর লস অ্যান্ড ড্যামেজ নামক একটি ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে একমত হয়। আর ২০১৫ সালে ১৯তম জলবায়ু আলোচনায় প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৮-এ লস অ্যান্ড ড্যামেজের আওতায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে পরিকল্পনার একটি কার্যকর ধারণা দিয়েছে। আমরাও অনেক আশাবাদী হয়ে উঠলাম। তবে পরের জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে কার্বন উদ্গিরণের জন্য দায়ী ধনী এবং সম্পদশালী দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির ঐতিহাসিক দায় তাদের ঘাড়ে আসতে পারে ভেবে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফাইন্যান্সিংয়ের আলোচনা আর বেশি দূর এগোতে দেয়নি।
আজারবাইজান একটি তেলরাষ্ট্র। তবু এবারের জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তারা। রাশিয়ার ভূরাজনীতি ও লবিংয়ের ফলে দেশটি এ সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। এ দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি নির্ভর করে জীবাশ্ম জ্বলানি উত্তোলনের ওপর। এমন এক দেশে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন গ্রেটা থুনবার্গসহ সব জলবায়ু কর্মী। সাম্প্রতিক এক বক্তৃতায় গ্রেটা বলেছেন, এটি ‘গ্রিনওয়াশ সম্মেলন’।
জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাহায্য প্রয়োজন। এই দেশগুলো যেন জলবায়ু তহবিল থেকে সাহায্য পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিধি দেশগুলো একটি চুক্তির জন্য কাজ করছে। এই চুক্তি হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো একটি কাঠামোর মাধ্যমে সাহায্য পেতে পারে। ২০০৯ সালের জলবায়ু সম্মেলনে চুক্তি হয়েছিল, বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দেওয়া হবে। শুধু ২০২২ সালে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছর এই সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। এদিকে সেই চুক্তিটি এ বছরই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
প্রতি বছরই জলবায়ু সম্মেলনে আর্থিক আলোচনা নিয়ে প্রচুর উত্তেজনা, আলাপ বা সমালোচনা-পর্যালোচনা থাকে। যেমন এবারে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ঔপনিবেশিক ‘অপরাধের’ জন্য ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী বাকুগামী ফ্লাইট বাতিল করেছেন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলিই তার দলকে আলোচনা রেখে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তো রয়েছেই। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে জলবায়ু তহবিলসহ নানান বিষয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
প্রতি বছর জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা সম্মেলনে বিক্ষোভ দেখান। এবারও বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনে রয়েছেন। এবারের মূল দাবি, যে ধনী দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এতদিন পৃথিবীকে উত্তপ্ত করেছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কপ-২৯ সম্মেলনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশাল ফুটবল স্টেডিয়ামের ছাদে ব্যানার লাগানো হয়েছে। সেখানে লেখা, ‘তহবিল বাড়াও’। ধনী দেশগুলো শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে এখন পর্যন্ত এত বেশি কার্বন নিঃসরণ করেছে, যার কারণে জলবায়ু সংকট তৈরি হয়েছে।
ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রচারকারীরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানাচ্ছে। জলবায়ু সংকট তৈরিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দায় খুব কম। তাই জলবায়ুর বিধ্বংসী প্রভাব থেকে দেশগুলো রক্ষা পেতে সাহায্যের প্রয়োজন হবে। ক্লাইমেট ফাইন্যান্স গ্রুপ ফর ল্যাটিন আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ক্যারিবিয়ানের সান্ড্রা গুজম্যান বলেছেন, ‘আমরা সব উন্নত দেশকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তার দাবি, দেশগুলোকে ঋণ নয়, অনুদান দিতে হবে। বেসরকারি খাতের অর্থায়ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলো চালাতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও ঝড় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করতে পারে না।
সমস্যা হলো, জলবায়ু অর্থায়নের কোনো সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই। চলমান চুক্তি অনুযায়ী এ বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক কী, তা পরিষ্কার করা নেই চুক্তিতে। দেশগুলো এবারের সম্মেলনে একটি সংজ্ঞায় একমত হতে পারে, আবার নাও পারে। তবে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকারক কিছু প্রকল্প থেকে সরে আসার সম্ভাবনা আছে। সান্ড্রা গুজম্যান বলেছেন, ‘কিছু দেশ বলছে, গ্যাসে বিনিয়োগও জলবায়ু অর্থায়ন, কারণ গ্যাস কয়লার চেয়ে কম নির্গমন করে। কিন্তু গ্যাস আসলে জীবাশ্ম জ্বালানি।’
বাকুতে দুই সপ্তাহের টানাপড়েনের পর অবশেষে প্রায় ২০০টি দেশ জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে ধনী দেশগুলোর বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলো।
রোববার আজারবাইজানের একটি স্টেডিয়ামে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত এর তীব্র বিরোধিতা করে। ভারতীয় প্রতিনিধি চাঁদনী রাইনা বলেন, ‘প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ অত্যন্ত কম, এটি নগণ্য। এই নথি চোখের আড়াল করার কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। এটি আমাদের বিশাল চ্যালেঞ্জের সমাধান করবে না।’
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো কত অর্থ দরিদ্র দেশগুলোকে দেবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কম দায়ী হলেও দরিদ্র দেশগুলোই এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
ইইউর জলবায়ু প্রতিনিধি ওপকে হোয়েকস্ট্রা বলেন, কপ-২৯ ‘জলবায়ু অর্থায়নের নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগমুহূর্ত পর্যন্ত কূটনীতিকরা চূড়ান্ত বাক্য সংশোধন করে যাচ্ছিলেন। ধনী দেশগুলো আরও অর্থ না দিলে আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়েছিল উন্নয়নশীল দেশগুলো। ‘কোনো চুক্তি না থাকাই খারাপ চুক্তির চেয়ে ভালো’-এই যুক্তিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো চুক্তিতে সই করেছে, যদিও তাদের চাহিদার চেয়ে অনেক কম পেয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়তে এবং জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিতে বাধ্য। আগের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে এটি বেশি হলেও, উন্নয়নশীল দেশগুলো এটিকে ‘অপমানজনকভাবে কম’ বলেছে। তারা আরও বেশি অর্থ চেয়েছিল। পাওয়ার শিফট আফ্রিকা থিঙ্কট্যাঙ্কের কেনিয়ান পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য এই কপ একটি দুর্যোগ। জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার দাবি করা ধনী দেশগুলোর মানুষ এবং গ্রহ, উভয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।’
১৩৪টি উন্নয়নশীল দেশের একটি গ্রুপ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে কমপক্ষে ৫০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিল।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিল স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ তাদের চাওয়া সবকিছু পায়নি এবং আমরা বাকু ছেড়ে যাচ্ছি এখনও অনেক কাজ বাকি রেখে। বিজয়োল্লাসের সময় নয়।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ চেয়েছিল চীনের মতো নব্য ধনী উদীয়মান অর্থনীতি অবদান রাখুক। চূড়ান্ত চুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে স্বেচ্ছাসেবীর ভিত্তিতে অবদান রাখতে ‘উৎসাহিত’ করে, যা চীনের জন্য কোনো পরিবর্তন নয়।
ধনী দেশগুলো বলেছে, সরাসরি সরকারি অর্থায়নে আরও বেশি প্রত্যাশা করা রাজনৈতিকভাবে অবাস্তব। জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদেশিক সহায়তা, উভয়ের প্রতি সন্দিহান ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরছেন। কিছু পশ্চিমা দেশে সবুজ অ্যাজেন্ডার বিরুদ্ধে ডানপন্থি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
চুক্তিতে বর্ধমান তাপমাত্রা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতি বছর ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বৃহত্তর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে এর বেশির ভাগ আসবে বেসরকারি উৎস থেকে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে দুবাইয়ের গত বছরের শীর্ষ সম্মেলন থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার আহ্বান হালকা করার প্রচেষ্টা নিয়ে ধনী দেশগুলো এবং ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো উদ্বিগ্ন।
বাকুতে প্রস্তাবিত পাঠ্যগুলোতে দুবাইয়ের ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার’ প্রতিশ্রুতির কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। কিছু দেশের অভিযোগ, তেল-গ্যাস রফতানিকারক আজারবাইজানের বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা ও ইচ্ছাশক্তির অভাব রয়েছে। বিশ্ব যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রাণঘাতী দুর্যোগের মুখোমুখি, তখন আজারবাইজানের এই অভাব উদ্বেগজনক।
পরিবেশবাদী ও উদ্যোক্তা
সময়ের আলো/আরএস/