ব্যাংক ডাকাতির খবর বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ ডাকাতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জালিয়াতি হিসেবে ধরা হয়। কিছুদিন আগে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় কেএনএফ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ম্যানেজারকে অপহরণ, অস্ত্র লুট ও ব্যাংকের ভল্টের টাকা লুটের চেষ্টা করে। পরদিন একই জেলার থানচি উপজেলায় সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের
শাখায় সন্ত্রাসীরা হানা দেয়। তারা থানচি বাজারের আশপাশে ফাঁকা গুলি চালিয়ে ত্রাস তৈরি করে।
এসব ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডাকাতির এই ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাংকগুলোর দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশের সব ব্যাংকের ভেতরের ও বাইরের এলাকা সিসিটিভি কিংবা এনভিআর (নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার)-এর আওতায় নিয়ে আসারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়মিত পুলিশ সদর দফতর থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানায় দায়িত্বশীলরা।
এদিকে শুক্রবার সময়ের আলোতে এসেছে, ১৯ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় রূপালী ব্যাংকের জিনজিরা শাখায় ডাকাতি করতে আসে তিন ডাকাত। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেরানীগঞ্জের ব্যাংকে জিম্মিদশার অবসান হয়। পরে জানা যায় খেলনা পিস্তল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিল তিন তরুণ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রাহক সেজে তিন ডাকাত ব্যাংকে প্রবেশ করে। এরপর খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে ম্যানেজারকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে তারা; যা ব্যর্থ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা। পরে তারা আত্মসমর্পণ করে।
এই ডাকাত দলের আক্রমণ, পরিকল্পনা ও কৌশল বিবেচনায় নিলে এটা স্পষ্ট যে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে বাধাগ্রস্ত না হওয়ার ব্যাপারে তারা সন্দেহমুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, স্থানীয় জনগণ এগিয়ে না এলে ডাকাত দলের সব সদস্যই নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেত।
অতীতের ব্যাংক ডাকাতিগুলোর বিচার হলে এবং অপরাধীরা শাস্তি পেলে হয়তো এ ঘটনা এড়ানো যেত বলে আমরা মনে করি। ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণের প্রবণতা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতেও সাইবার আক্রমণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকারও হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেতা জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করি, এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।