বুড়ি ভূতটির নাতনির বিয়ে, তাই তার চিন্তার অন্ত নেই। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য ঘরে খাবার-দাবার তেমন কিছুই নেই। যার মেয়ের বিয়ে হবে সে ভূতটি খুব অলস। কাজকাম করে না ঘুরে ঘুরে খায়।
সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটের পাশে গাছের ওপর বসে থেকে পথচারীদের অযথা ভয় দেখায়। কখনো গাছে বসে খিলখিল করে হাসে আবার হাউমাউ করে কাঁদে। তার কান্না শুনে কেউ যদি সেখানে দেখতে যায় তখন হি হি, হা হা করে হাসতে থাকে. এসব কৃতকর্মের খানসামপুরের মানুষ বড়ই অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এই অলস ভূতটি একদিন আরও এক মারাত্মক কাজ করে। আর সেটা করতে গিয়ে নিজেই ভেসে যায় শিবলু রাখালের ফাঁদে। শিবলু খুব চালাক চতুর এবং দুর্দান্ত সাহসী। একদিন শিবলু তার মালিকের সঙ্গে বড় এক ষাঁড় গরু শাহী বাজার হাটে নিয়ে যায়। অনেক বড় গরু দরদাম তেমন হয়নি তাই শিবলুর মালিক সন্ধ্যার সময় বলে এই শিবলু গরু তো আজ আর বিক্রি হবে না, তুই তা হলে এবার বাড়ি ফেরত নিয়ে যায়। আমি কিছু বাজার-সওদা করে নিয়ে যাব। শিবলু বলে ঠিক আছে কত্তা। তা হলে আমি চললাম।
শিবলু আগে আগে গরুর রশি ধরে যায় আর গরু পেছে পেছে চলে। এদিকে পচু দাদার বাঁশ বাগানের নিচ দিয়ে অন্ধকারে শিবলু গরু নিয়ে যাচ্ছে আর গান গাইছে গুনগুন করে। বাঁশবাগানের কাছেই এক ধানের খেতে ছিল, সবেমাত্র ধান কেটে কেটে খেতেই ছড়িয়ে দিয়েছে গৃহস্থ। কারণ সেখানে শুকিয়ে গেলে বহন করা এবং ধান ঘরে তোলা অনেকটা সহজ। আর তখনকার সময় এমন কেটে বিছিয়ে রাখা ধান রাতে চোর এসে নিয়ে যেত। তাই মাঠে সবাই ধান পাহারা দিত। পচু দাদার বাঁশঝাড়ের অন্ধকার যেন ঘুটঘুট করছে তার মধ্যে শীতের দিন। শিবলুর চোখে পড়ে কাটা ধানের ওপরে কে যেন বসে বসে হুক্কা টানছে। সঙ্গে হুক্কার ওপরের তামাকের কল্কি দিয়ে ছড়ছড় করে আগুন জ্বলছে, আর হুক্কুর হুক্কুর করে কাশি দিচ্ছে। শিবলু আর লোভ সামলাতে পারে না। সে বলে কে গো হুক্কা টানছো? তামাকের বেশ সুগন্ধ বের হচ্ছে দেখছি! আমারও খুব নেশা হয়েছে গো বাজারে মালিকের সঙ্গে ছিলাম কোথাও নেশাটা মারতে পারিনি। এদিকে শীতে জমে গেছি। মনটাও নেশায় তিড়িংবিড়িং করছে। এদিকে বুড়ি ভূতটি নাতনির বিয়ের মেহমানদারি করার জন্য কিছু মাছ জোগাড় করে ভাজি করছে, সেই সঙ্গে ব্যাঙের রোস্ট তৈরি করছে। চলছে ভূতদের নাচগান আর ঢোলের বাজনা। অলস ভূতটির এসবের কোনো চিন্তা নেই, পথে বাঁশঝাড়ের নিচে বসে আছে মানুষকে ভয় দেখিয়ে, মানুষ বাজার-সওদা ফেলে দৌড় দেওয়ার অপেক্ষায়! আর সেই সুযোগ নিয়ে সওদাপাতি নিয়ে বাসায় চম্পট দেবে। এমন সময়ই শিবলু গরু নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে তামাকের গন্ধে নিজেও ভূত হওয়ার দশা।
শিবলু অলস ভূতের কাছে গিয়ে বসে এবং হুক্কা নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায়! যতই হাত বাড়ায় ততই হুক্কা ফাঁকে যায়। শিবলু মোটেই ধরতে পারে না। তখন শিবলুর মনে সন্দেহ জাগে আরে এটা তো মানুষ নয়! এতো ভূতের পাল্লায় পড়ে গেছি। এই বলে তার হাতে থাকা পাকা বাঁশের লাঠিতে কী যেন মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিয়ে পেছনের দিকে তিনটি বাড়ি মারে! বাড়ি মারার সঙ্গে সঙ্গে মাগো বাবাগো বলে দৌড়ে বাঁশঝাড়ের ভেতরে চলে যায় শেয়ালের রূপ ধরে। আর সেই থেকে অলস ভূতটি ভয় দেখানো ও দুষ্টামি-ফাজলামি ছেড়ে দিয়ে সংসারের কাজ শুরু করে।
সময়ের আলো/আরএস/