‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ কর্মসূচি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি বানানোর ‘অপচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাম ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। সংগঠনটি বলছে, অভ্যুত্থানের পূর্বে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্ল্যাটফর্মটির যে সার্বজনীনতা ছিল, তা ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সমন্বয়কদের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘গোষ্ঠীগত’ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ারে রূপান্তরিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় ও সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক প্রচেষ্টায় সংঘটিত কোনো অভ্যুত্থান নয়। এটি বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। অথচ অভ্যুত্থানের ৫ মাস পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি— জনগণ ও সকল দলের অংশীদারিত্বকে অস্বীকার করে অভ্যুত্থানকে তাদের গোষ্ঠীগত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
‘অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ কর্মসূচিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কল্পিত পার্টি’র নির্বাচনী প্রচারণার শোডাউন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের সকল অংশীদারের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির ৩১ ডিসেম্বরের ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ কর্মসূচি মূলত অভ্যুত্থানের একক শক্তি হিসেবে নিজেদের দাবি করার অপতৎপরতা। এটি গণঅভ্যুত্থানের গণমালিকানাকে অস্বীকার করার ষড়যন্ত্র যা এ অভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনা ও সার্বজনীন মালিকানাকে ধ্বংস করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর নয়; এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতার ঐক্যের প্রতীক। যারা এ অভ্যুত্থানকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তারা ইতিহাস ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
সময়ের আলো/আরআই