মানুষের রিজিক হালাল বা পবিত্র হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, উপভোগ্য বস্তু হালাল তথা পবিত্র হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তা অর্জনের পথ বা মাধ্যম হালাল বা বৈধ হতে হবে। এ দুইয়ের কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলে ওই রিজিক হালাল বা পবিত্র হবে না। নবী-রাসুলগণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাঁরা নিষ্পাপ। তবু আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা হালাল পবিত্র উত্তম রিজিক খাও আর সৎকর্ম করো’ (সুরা মুমিনুন : ৫১)।
অতঃপর সব বিশ্ববাসীর উদ্দেশে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করে থাক’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। তা ছাড়া হালাল উপার্জন একটি ফরজ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজসমূহের পরে বিশেষ একটি ফরজ।’ (কানযুল উম্মাল : ৯২০৩)
হালাল ও পবিত্র উপার্জনের লাভ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ হাতে উপার্জিত হালাল রিজিক আহার করবে, সে বিদ্যুৎগতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে’ (জামিউল আখবার : ৩৯০)। আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করবে, কেয়ামতের দিন সে নবীদের সঙ্গে শামিল হবে এবং অনুরূপ পুণ্য লাভ করবে’ (জামিউল আখবার : ১০৮৮)। আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করে জীবন ধারণ করে, আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং তাকে কখনো শাস্তি দেবেন না।’ (জামিউল আখবার : ১০৮৫)
অবৈধভাবে উপার্জিত খাবার খেয়ে ইবাদত করলে সওয়াব পাওয়া যাবে না। ওই ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই গোশত (দেহ) জান্নাতে যাবে না, যা হারাম (খাবার) থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী’ (সহিহ ইবনে হিব্বান : ১৭২৩, তিরমিজি : ৬১৪)। ইসলামের নির্দেশনা হলো একজন মুসলমান হালাল রিজিক অর্জনের জন্য যেমন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন, তেমনি হারাম বর্জনের জন্যও তিনি সদা সতর্ক থাকবেন।
কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো এক ব্যক্তি দুহাত আকাশের দিকে উত্তোলন করে দোয়া করে বলে, ‘হে আল্লাহ! হে আল্লাহ!’ অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক-সবকিছুই হারাম উপার্জনের। এমনকি সে এ পর্যন্ত হারাম খাদ্য দ্বারাই জীবন ধারণ করেছে। সুতরাং তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম)
ব্যবসায়ী পণ্যে ভেজাল দিলে, ওজনে বা পরিমাণে কম দিলে, নকল পণ্য বিক্রি করলে; মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলে তার উপার্জন হালাল হবে না। ক্রেতাও যদি কোনোভাবে বিক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে তার রিজিকও হালাল হবে না। শ্রমিক তার মনিবকে ফাঁকি দিলে তার উপার্জন হালাল হবে না। মনিব তার শ্রমিককে ঠকালে, ন্যায্য পাওনা না দিলে তার সম্পদ হালাল হবে না।
কর্মচারী মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার উপার্জন হালাল হবে না, মালিক তার কর্মচারীর প্রতি জুলুম ও অবিচার করলে তার সম্পদ হালাল হবে না। হালাল সম্পদকে প্রতি বছর হিসাব করে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে পবিত্র করতে হয়। সঠিকভাবে জাকাত আদায় না করলে বৈধ সম্পদও হারাম হয়ে যায়। পরিশেষে বলব, ওজু-গোসল বা পবিত্রতা ছাড়া যেমন নামাজ শুদ্ধ হয় না, ঠিক তেমনি হালাল জীবিকা ছাড়া কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
সময়ের আলো/ আরএস/