চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পা রেখেছিল বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বেশ জোর গলাতেই বলেছিলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন্স হওয়ার জন্যই যাচ্ছি’।
স্বপ্ন বড় হলেও বাংলাদেশ আসর শেষ করে একটি পয়েন্ট নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচটি ছাড়া ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্ট করেছে।
বিশেষ করে ওয়ানডে সংস্করণে। অথচ একটা সময় এই সংস্করণে দেশ ও দেশের বাইরে শক্তিশালী দল হিসেবেই বিবেচিত হতো। অথচ বেশ অভিজ্ঞ দল নিয়েও হতাশ হয়ে ফিরতে হলো মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের।
ধরা হচ্ছে এই আসরটি মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর জন্য শেষ আইসিসি আসর। দুজন আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা। তবে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দেখা গেছে। এই দুজন ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বেশ কঠিন সময় পার করেছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ত্রæটি ছিল স্ট্রাইক রোটেশনের অভাব। প্রথম দুই ম্যাচে মোট ৩৪০টি ডট বল খেলেছে ভারতের বিপক্ষে ১৫৯ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১টি। অন্য দলগুলো তিনশর বেশি স্কোরের কথা মাথায় রেখে ইনিংস গড়লেও বাংলাদেশ গতি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ওভারেই ডট বল দেওয়ার কারণে প্ল্যান কাজে লাগেনি ঠিকঠাক মতো।
অফফর্মের কারণে লিটন দাসের বদলে তানজিদ তামিমকে সুযোগ দেওয়া হলে, তিনিও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। দুটি ম্যাচে ভালো শুরু পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি যথাক্রমে ২৫ ও ২৪ রান করেন। নিজেকে প্রমাণ করতে হলে এমন সুযোগকে বড় স্কোরে রূপান্তরিত করতে হয়, কিন্তু তানজিদ তার সুযোগগুলো নষ্ট করেছেন। তামিম ইকবালের জায়গা পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে, কিন্তু তার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে বিকল্প ভাবা হচ্ছিল মেহেদী হাসান মিরাজকে। সে হিসেবে ব্যাটে-বলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল মিরাজেরই, কিন্তু তিনি তা করতে ব্যর্থ হন। দুটি ম্যাচেই উইকেটশূন্য থাকেন এবং নম্বর চারে ব্যাটিং করে মাত্র ৫ ও ১৩ রান করেন। এমনকি তার অফ-স্পিনে কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।
কিউই স্পিনার মাইকেল ব্রেসওয়েল যেভাবে এক হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন, মিরাজের কাছ থেকে তার ছিটেফোঁটাও পাওয়া যায়নি।
পেস বিভাগে মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর ভরসা করা হলেও তিনি হতাশ করেছেন। ফর্মে থাকা হাসান মাহমুদের বদলে মোস্তাফিজকে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সফল হয়নি।
তবে কিছুটা ইতিবাচক ছিলেন তাওহীদ হৃদয় ও শান্ত। হৃদয় প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেয়েছেন, শান্তর অর্ধশতক এবং জাকের আলীর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বেশ ইতিবাচক। কিন্তু শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে এই অবদানগুলো যথেষ্ট ছিল না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতায় ছিলেন দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর দুর্বল পারফরম্যান্স, যা দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এখন দেখার বিষয় দলের এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়াই ওয়ানডে ফরম্যাটে এগিয়ে যাবে কি না নাকি তাদের আরও কিছু সময় দেওয়া হবে। তবে এ কথা স্পষ্ট যে, সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের বর্তমান মানসিকতা ফরম্যাটের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধা দিচ্ছে। যদি তারা পরিবর্তন না আনে, তা হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের।