চলতি বছর প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) ৯৭ কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সোমবার (১০ মার্চ) এক মতবিনিময় সভায় নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক, মহিলা পরিষদ সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এ তথ্য জানান।
এদিকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মাগুরায় ধর্ষিত শিশুটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে দেশের ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছে এর মধ্যে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছেন সবাই। ইসলামেও স্পষ্ট বলা আছে ধর্ষকের শাস্তি সম্পর্কে।
আরও পড়ুন :
‘পুরো বাংলাদেশ বোন আছিয়ার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, লজ্জিত’
ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে। হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব মতে, ধর্ষণের জন্য ব্যভিচারের শাস্তি প্রযোজ্য হবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘ব্যভিচারী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত কোরো। আল্লাহর বিধান কার্যকরে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা নুর, আয়াত: ২)
ধর্ষকের শাস্তির ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো। কথা বলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মাগুরায় বোনের শ্বশুর কর্তৃক আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করেছে। এ রকম পৈশাচিক ঘটনা এ দেশে এই প্রথম নয়। বারবার কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, এখন সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজা জরুরি। প্রশাসনিক দুর্বলতা, আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা প্রকট হলে অপরাধীরা বারবার এই ধরনের ন্যাক্কারজনক অপরাধ করার সাহস পায়! অপরাধীরা জানে, এদেশে টাকা দিয়ে সব ‘ম্যানেজ’ করা যায়। তাই তো অপকর্ম করার আগে তারা একবারও ভাবে না।’
‘ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুততম সময়ে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার ফাঁক-ফোকর বন্ধ করা জরুরি।’ বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
বারিধারা জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের খতিব এবং জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মাসউদ আহমাদ বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে মানুষকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের আইনের কথা বলে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য অনেক বিধানের কথা বলেছেন। এর মধ্যে সবার নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস এবং ধর্ষকদের শাস্তির কথা আল্লাহ বলেছেন। তাই আমাদের বাংলাদেশে যদি সামাজিকভাবে নারীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, তা হলে নিরাপত্তা বিধানের জন্য আল্লাহ যে শাস্তির কথা বলে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই শাস্তি বাস্তবায়ন করা গেলে সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে কোরআনের শাসন যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তা হলে আমাদের নারী ও শিশুরা নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। সবার নিরাপত্তার জন্য কোরআনের শাসন চাই।’
‘ইদানীং দেশে শিশু ধর্ষণসহ নানা ধরনের অন্যায়মূলক কাজের যে বিস্তার ঘটেছে, এর কারণ হলো সমাজে কোরআন ও হাদিসের অনুশাসন না থাকায়। তাই কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে শিশু ও নারীরা নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ধর্ষকদের শাস্তি বাস্তবায়ন করা যাবে। তা হলে সবাই নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।’ বললেন মাওলানা মাসউদ আহমাদ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক