যেভাবে কাটাবেন কদরের রাত

রায়হান রাশেদ

ইসলামের আলো

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর

2025-03-27T16:25:00+00:00
2025-03-27T16:35:21+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
ইসলামের আলো
যেভাবে কাটাবেন কদরের রাত
রায়হান রাশেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫, ৪:২৫ পিএম  আপডেট: ২৭.০৩.২০২৫ ৪:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে সকাল পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত :১-৫)

হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এ রাত। এ রাতের প্রতিটি সেকেন্ড অনেক মূল্যবান। রাতে ইবাদত-আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়া যায়। বান্দার গুনাহ মাফ হয়। আমলের ঝুলি সওয়াবে পরিপূর্ণ হয়। বান্দার মনের প্রত্যাশা পূরণ হয়। এ রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমল নেই। তবে বিশেষ কিছু আমল করা যেতে পারে। যেমন, নফল নামাজ, দুখুলিল মসজিদের নামাজ, মাগরিব নামাজের পর আউওয়াবিন নামাজ, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ, সালাতুত তাসবিহ, তওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি নামাজ পড়া। অন্যান্য আমলের মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত, ইসতেগফার পাঠ, দোয়া-মোনাজাত, জিকির-আজকার, কবর জিয়ারত, মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করা। 

কোন রাতটি কদরের রাত—রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেননি। তিনি এ রাতের কয়েকটি বিশেষ লক্ষণের কথা বলেছেন, এ রাত হবে প্রফুল্লময়। রাতে তেমন ঠান্ডা পড়বে না, পড়বে না তেমন গরম। আকাশে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘...ওই রাতের লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে—তা উজ্জ্বল হবে। কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৭০)

হাদিস থেকে জানা যায়, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতের একটি রাত হলো লাইলাতুল কদর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (সহিহ বুখারি,হাদিস: ২০১৭)। তবে ২৭ রমজানের রাত লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনার কথা অনেক ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। 

আদম (আ.) ভুল করে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। ফলে তিনি জান্নাতের নেয়ামত থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। এরপর তিনি ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে ক্ষমা করে দেন। আদম (আ.)-এর সন্তান মানুষরাও ভুল করে। গুনাহ করে। আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহর দরবার থেকে গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার এক অবারিত সুযোগ লাইলাতুল কদর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, আল্লাহ তার আগেরকার সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭০) 

এ রাতের সওয়াব থেকে কোনোভাবে নিজেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দুনিয়ার সব ব্যস্ততা পেছনে ঠেলে নিজেকে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। আল্লাহর প্রেমময় সান্নিধ্য পেতে নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের বরকত থকে বঞ্চিত, সৈ হাজারো কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৩/৩৪০)

আমরা কদরের রাতে নিজেকে ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত করব। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সচেষ্ট হব। তাঁর কাছে যাপিত জীবনের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা চাইব। রাত জেগে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মুরাকাবা করব। এ রাতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সেরা গ্রন্থ কোরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। এ রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন। কোরআন তেলাওয়াতে আছে অগণিত সওয়াব। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি সওয়াব পাবে। আর একটি সওয়াব ১০টি সওয়াবের সমপরিমাণ।’ (সুনানে তিরমিজি)। বিশেষ করে রমজানে প্রতিটি সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।


কদরের সৌভাগ্যময় এ রাতে সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করুন। এশা ও তারাবি নামাজের পর নফল নামাজে মনোনিবেশ করুন। নামাজে দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদা আদায় করুন। রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করুন। নবীজি (সা.) রমজানের রাতগুলোতে দীর্ঘ রুকু-সিজদা বিশিষ্ট নামাজ পড়তেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে ও অন্য সব মাসের রাতে এগারো রাকাতের অধিক নামাজ আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ চার রাকাত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস:৩৫৬৯। যদি এ রাতে নফল নামাজ পড়তে না পারেন, অন্তত ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়ুন। তাহলে সারা রাত নফল ইবাদতের সওয়াব পাবেন।

আল্লাহর অনুগ্রহের কথা হৃদয়ের মসনদে হাজির করে তাঁকে স্মরণ করুন। তাঁর নাম জপুন। জগৎ বিস্তৃত সুন্দর সৃষ্টির কথা চিন্তা করুন। চারপাশের প্রকৃতির দিকে অন্তরের চোখ দিয়ে তাকান। ভাবুন, আল্লাহ কত উত্তমভাবে এ পৃথিবী সাজিয়েছেন। মুরাকাবায় বসে নিজের দিকে খেয়াল করুন। আহ, কত সুনিপুণভাবেই তিনি আমাকে সাঁজিয়েছেন। দেখবেন, আপনার সঙ্গে পৃথিবীর সৃষ্টিরা দয়াময়ের প্রশংসা করছে। তাঁর তাসবিহ পাঠ করছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি পর্বতমালাকে নিয়োজিত করেছিলাম, যাতে তারা তার (দাউদের) সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা ও সূর্যোদয়কালে তাসবিহ পাঠ করে। এবং পাখিদেরও, যাদের একত্র করে নেওয়া হতো। তারা তার সঙ্গে মিলে আল্লাহর (অভিমুখী হয়ে) জিকিরে লিপ্ত থাকত।’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত:১৮-১৯)

দীর্ঘ নামাজ, নিমগ্ন কোরআন পাঠ, জিকির-আজকার ও সৃষ্টি চিন্তায় অবসাদগ্রস্ত মনে হলে কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে বাইরে বের হন। অসহায়-গরিবকে দান-সদকা করুন। অভাবীর পাশে দাঁড়ান। প্রতিবেশীর খোঁজখবর নিন। প্রয়োজন হলে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করুন। 

লাইলাতুল কদরে পড়ার মতো একটি বিশেষ দোয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানি যে এটা লাইলাতুল কদর তবে আমি কী দোয়া পড়ব? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি এই দোয়া পড়বে— 

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি অনেক বড় ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। আমাকে ক্ষমা করে দিন! (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক


  বিষয়:   শবে কদর  কদরের রাতের আমল  রোজা  রমজান  কদর 


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: